ঐতিহ্য কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পণ্য প্রদর্শনী

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৮

বাংলাদেশ ঐতিহ্য কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রাজধানীতে শুরু হয়েছে চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রদর্শনী। গতকাল শুক্রবার সকালে র্যাডিসন হোটেলের উত্সব হলে ‘দ্বিতীয় হেরিটেজ গালা ইভেন্ট - আগস্ট ২০১৯’ এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। দু’দিনের এ প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ।

প্রধান অতিথি হিসেবে এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ত্রাণ ভান খোয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐতিহ্য কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট তুতলী রহমান। আরো বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমান, বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) মো. মনজুর কাদের, গুলশান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সাখাওয়াত আবুল খায়ের মোহাম্মদ, নারী উদ্যোক্তা দিলরুবা আহমেদ, ডলি ইকবাল প্রমুখ।

এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলার ঐতিহ্য টিকে রয়েছে গৌরবের সঙ্গে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের ধরন বদলায়। কিন্তু ঐতিহ্য হারিয়ে যায় না। ঐতিহ্যকে আধুনিকতার স্পর্শে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আধুনিক শিল্পী ও উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব। ঐতিহ্য কারুশিল্প ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরবার জন্য অনন্য আয়োজন করেছে।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ঐতিহ্য আমাদের জাতিগত পরিচয়কে তুলে ধরে। আধুনিক বিশ্বে আমরা বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠছি ঠিকই। কিন্তু আমাদের পরিচয় আমরা বাঙালি আর তা মিশে রয়েছে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের মাঝে।

রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, তুতলী স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেয়। এই যে আয়োজন নিয়ে সে হাজির হয়েছে তা অনেক প্রান্তিক সাধারণ মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের কাজ করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। আমি আশা করবো এভাবেই সে নতুন নতুন চমক নিয়ে বার বার হাজির হবে।

তুতলী রহমান বলেন, স্বপ্ন দেখতে হবে। যদি আমরা স্বপ্নই না দেখি তাহলে তা বাস্তব রূপ পাবে কীভাবে! ঐতিহ্য কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সম্মিলিত স্বপ্নই আজ এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। আমাদের এ অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। উদ্বোধনী পর্বের পর ছিল ফ্যাশন শো। দেশের স্বনামধন্য মডেলরা উপস্থিত দর্শকদের সামনে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন, জামদানি, সিল্ক ও খাদি কাপড়ে তৈরি আধুনিক ডিজাইনের শাড়ি ও পোশাক তুলে ধরেন।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী এবং চিরায়ত বাংলার প্রতিনিধিত্বকারী সব লোকজ উপকরণ স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। বিভিন্ন স্টলে ভিন্ন ভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। রয়েছে জামদানি, মসলিন, রাজশাহী সিল্কের শাড়ি, হাতে নকশা করা শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ, শখের হাড়ি, মাটির টেপা পুতুল, পাট দিয়ে বানানো লোকজ পণ্য প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে ঢাকাই পনির, বাখরখানি, পিঠা ইত্যাদি। হোটেল র্যাডিসন ব্লু ঢাকা-এর উত্সব হলে সকাল এগারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। এদিকে, আজ শনিবার সমাপনী দিনের আয়োজন বসবে সকাল এগারটায়। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অরুনরাং ফতং হামফ্রেস। সম্মানিত অতিথি থাকবেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট রুবানা হক।