গাড়ি ভাড়া করে চালককে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব। তারা জানায়, ঐ চক্রটি যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে কৌশলে নিজেদের সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে চালককে জিম্মি করে। এরপর নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে প্রাইভেটকারসহ অপহরণ হন এনায়েতউল্লাহ নামে একজন। র্যাব-৪-র একটি দল মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুর্গম চরের কাশবন থেকে তাকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় চার জনকে। তারা হলো, শাহজালাল, ফয়সাল, জয়নাল হাজারী ও রাকিব। গতকাল শুক্রবার দুপুরে কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।
র্যাব জানায়, সম্প্রতি ১২ লাখ টাকায় প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ ২৭-৬৮৮৯) কিনে ভাড়ায় চালানো শুরু করেন এনায়েতউল্লাহ। গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে রূপনগরের শিয়ালবাড়ী মোড় থেকে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে ওঠেন দুই জন। পদ্মা পার হয়ে রাত দুইটায় কাঠালবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেয় তিন জন। তারা তল্লাশির নাম করে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর এনায়েতউল্লাহর হাত-পা বেঁধে শিবচরের একটি ছোটো ঘরে আটকে রাখে। প্রাইভেটকারটি অপহরণকারীরা ফরিদপুরের সদরপুরে আটরশির জাকের মঞ্জিলের পার্কিংয়ে লুকিয়ে রাখে।
অপহরণকারীরা এনায়েতউল্লাহকে চার দিন ধরে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের মারধরের শব্দ, কান্নার চিত্কার শুনিয়ে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এক পর্যায়ে বড়ো ভাই কেফায়েতউল্লাহ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার কথা বলেন। আর অপহরণকারীরা এ কথা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে এনায়েতকে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়। তবে কেফায়েতউল্লাহ রূপনগর থানায় সাধারণ ডায়ারি করে র্যাব-৪-এর সহযোগিতা চান।
র্যাব-৪ সিইও বলেন, আটককৃতরা তিন বছর ধরে বিভিন্ন পন্থায় গাড়িচালক ও মালিক এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। আটককৃতদের সঙ্গে জড়িত অপহরণকারী চক্রের বাকি সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
