নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে পাঁচটি ইউনিয়নের স্কুল-মাদ্রাসা ও কলেজসহ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি হাটবাজার নদীগর্ভে বিলীনের হুমকিতে রয়েছে। এছাড়া নদীভাঙনে শতাধিক পরিবার ভিটেবাড়ি হারিয়ে স্বজনদের বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলার বাটামারা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম সিকদার জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর পানি বৃদ্ধিতে তার ইউনিয়নের জাগরনী, সেলিমপুর, সাহেবরামপুর লঞ্চঘাট, আলিমাবাদ, ঘুলিঘাট ও কাসেমপুর এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকার ৩০টি পরিবার এরই মধ্যে ভিটেবাড়ি হারিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী জানান, জয়ন্তী নদীর ভাঙনে সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া, উত্তর বালিয়াতলী ও ব্রজমোহন গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে সফিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,সফিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজ হুমকিতে রয়েছে। এসব এলাকার ৩০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসানাত জাপান জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে তার ইউনিয়নের চরনাজিপুর, সাবেরেরচর ও ঘোষেরচর গ্রামের বেশিরভাগ অংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চরকালেখান ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোহসীনউদ্দীন খান জানান, বর্ষার শুরুতে জয়ন্তী নদীর ভাঙনে ঐ ইউনিয়নের মুলাদী-ঢাকা সড়কের ভেদুরিয়া খেয়াঘাট এলাকার ৫০০/৬০০ গজ রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিম চরকালেখান ও মৃধারহাট এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। মুলাদী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে ইউনিয়নের নবাবের হাট, ভাঙ্গারমোনা ও নন্দীর বাজার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৫ জুলাই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল(অব.) জাহিদ ফারুক শামীম মুলাদী উপজেলার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এক কিলোমিটার জায়গা নদী শাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাইদ জানান, জরুরি প্রকল্পের আওতায় খুব শিগগিরই মুলাদী উপজেলার নদীভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুলাদী-বাবুগঞ্জ আসনের এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু জানান, আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর ভাঙন রোধে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে কাজ শুরু হয়েছে।
