জম্মু-কাশ্মীরে গতকাল জুমার নামাজের পরে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় একটি বিক্ষোভ চলাকালীন হঠাত্ই তা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোঁড়া শুরু করলে নিরাপত্তা বাহিনী জবাবে ছোররা গুলি আর কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে। দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার
৩৫-এ এবং ৩৭০ ধারা বিলোপের পরে সৌরা এলাকাতেই প্রথম বড় বিক্ষোভ হয়েছিল দুই সপ্তাহ আগে শুক্রবারের নামাজের পর। গত শুক্রবারও নামাজের পরে শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছিল। কোনো গন্ডগোল হয়নি। গতকাল প্রথম নামাজের পরে স্বাধীনতাপন্থী কিছু স্লোগান ওঠে। তারপরে একটা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে তখন বেশ কয়েক হাজার মানুষ ছিলেন। গত সপ্তাহের মতোই গতকালের বিক্ষোভ মিছিলও নানা অলি গলি ঘুরে শেষ হচ্ছিল। কিন্তু হঠাত্ই একটা গলির ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকতে চেষ্টা করলে অশান্তি শুরু হয়। নিরাপত্তাবাহিনী যাতে ভেতরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য গলিগুলো খুঁড়ে, কোথাও কোথাও বড় ব্যারিকেড রেখে দিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। ভেতরে ঢুকতে গেলে পুলিশকে হেঁটেই ঢুকতে হয়। এরকমই একটা গলি দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে একদল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তখনই পাথর ছোঁড়া শুরু হয় একদিকে, আর অন্যদিকে সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো হয়। সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গলিটার দিকে দৌঁড়াতে থাকেন। একদিক থেকে পাথর ছোঁড়া হচ্ছিল, অন্যদিক থেকে ছোররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস আর গোলমরিচের গোলা ছোঁড়া হচ্ছিল। আহত একজনের চোখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল, আরেকজনের ঘাড়ে আঘাত লেগেছিল ছোররা গুলির। সংঘর্ষ প্রায় ঘন্টা দুয়েক চলে। দু’দিন ধরেই একটা পোস্টার লাগানো হয়েছিল শহরের নানা স্থানে যে শুক্রবারের নামাজের পরে বিক্ষোভ হবে। সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছিল শ্রীনগরে জাতিসংঘের কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে। হুরিয়ত কনফারেন্সের নামে ওই পোস্টার পড়েছিল। কিন্তু জাতিসংঘের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার একটি বাদে সব রাস্তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সকাল থেকেই। সেখানে ব্যাপক নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়েছিল।
ভারতে ৬ জঙ্গির অনুপ্রবেশ
তামিলনাড়ু রাজ্যে অনুপ্রবেশ করেছে লস্কর-ই-তৈয়বার ৬ জঙ্গি। গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবর পেয়ে তামিলনাড়ুতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই রাজধানী চেন্নাই, কোয়ম্বত্তূরসহ তামিলনাড়ুজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের থেকে চোখ ঘোরাতে ভারত সেখানে মিথ্যা অভিযান চালাতে পারে। আমরা শুনেছি, জম্মু-কাশ্মীরে আফগানিস্তান থেকে এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গি প্রবেশ করেছে। এই তথ্য প্রচার করে কাশ্মীরে গণহত্যা চালানো হতে পারে।
ভারতের পাশে ফ্রান্স
আমাদের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাশ্মীর এবং কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। আমি বলেছি, ভারত এবং পাকিস্তানকে আলোচনা করে সমাধান সূত্র বের করতে হবে। এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো জায়গা নেই।’ উপত্যকায় উত্তেজনা তৈরি করা ঠিক হবে না বলেও ম্যাক্রোঁ বলেছেন।
