ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন এ সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এ পথ দিয়ে অতি কষ্টে যাতায়াত করছে হাজার হাজার যাত্রী।
মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকার ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত পুরো সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। এতে করে মুক্তারপুর এলাকার ওই সেতু পেরুনোর পরপরই সমস্যায় পড়তে হয় এই সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণকে। এরপর নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটী পর্যন্ত প্রচুর ছোটো-বড়ো গর্ত ও খানাখন্দ পেরিয়ে তবেই গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে যাত্রীদের।
বেশি সমস্যা হচ্ছে বাসযাত্রীদের। চাকরিজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছতে পারছে না। মুক্তারপুর শিল্পাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন কারখানা শ্রমিকদের যানবাহন অনেক সময় সড়কের গর্তে পড়ে নষ্ট হয়ে গেলে পড়ে যান বিপদে। বাস না পেয়ে তারা অনেক সময় পানি মাড়িয়ে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলে যান।
বিভিন্ন পরিবহনের বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসচালকদের পাশাপাশি যাত্রীদের অনেকের মুখেই একই অভিযোগ ঘুরে ফিরে এসেছে। অভিযোগটি হলো—সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোর কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকগুলো অতিরিক্ত সিমেন্টবোঝাই অবস্থায় দিনের পর দিন এই সড়কপথে চলাচল করছে। ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিন গুণ বেশি সিমেন্টবোঝাই এসব কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চলাচলের কারণেই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বড়ো বড়ো খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙাচোরা এই সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফলে এ সড়ক দিয়ে মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে পঞ্চবটি হয়ে ঢাকা যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। জেলা শহরের একমাত্র সড়ক হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে সময়মতো পৌঁছতে পারছে না ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। সড়কে যানজটের সুযোগে রাতে হাটখোলা ব্রিজ সংলগ্ন বিসিক ও গোপচর এলাকার সড়কে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলেও জানান যাত্রী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে সেতু বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী রাজন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ঈদের আগেই এ কাজ শেষ করা হবে। তিনি আরো জানান, সড়কের আশপাশে অবস্থিত বিভিন্ন ফ্যাক্টরির পানি সড়কে নামার কারণে পানি জমে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব ফ্যাক্টরির মালিকদের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ আমরা সভা করেছি। সভায় কারখানার পানি যাতে সড়কে না নামে সে ব্যাপারে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তারা তা মানছেন না। তিনি জানান, সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এতে সড়কের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি মনে করেন।
