পাটুরিয়ায়-দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি লাঘবে পুনরায় চালু হবে আরিচা ঘাট এমন সুসংবাদ জানিয়েছে বিআইডব্লিউটি এ কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এম মাহবুব-উল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আরিচা ফেরি ঘাট নির্মাণের জন্য ৩শ ৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বেসিক্যালি হাই-ওয়ে এবং রেলওয়ের যাত্রীদের সহজ যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে এ ঘাটটি চালু করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পাটুরিয়ায়-দৌলতদিয়া ঘাটের যানজটের ভোগান্তি এড়াতে আরিচায় পুনরায় বিকল্প ফেরি ঘাট চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন ভুক্তভোগী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এ নৌ-পথে লঞ্চ, স্পিডবোট, কার্গো চলাচল অব্যাহত থাকলেও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। আরিচায় ফেরি ঘাট চালু হলে পারাপারের জন্য ঘাটে অপেক্ষা, বঙ্গবন্ধু ব্রিজের ওপর বাড়তি চাপ হ্রাসের পাশাপাশি যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের কষ্ট লাঘবসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরোও এক ধাপ অগ্রগতি হবে বলে বিভিন্ন মহল মত দিয়েছেন।
জানা যায়, রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর আরিচা-নগরবাড়ী (কাজিরহাট) রুটের ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে শুধুমাত্র দৌলতদিয়া রুটে ফেরি সার্ভিস চালু থাকে। ২০০২ সালে আরিচা থেকে ফেরি ঘাট স্থানান্তর করা হয় প্রায় ৭ কিলোমিটার ভাটিতে পাটুরিয়ায়। এতে আরিচা ঘাট গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করার লক্ষ্যে আরিচা থেকে ফেরি ঘাট পাটুরিয়ায় স্থানান্তর করলেও বর্তমানে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হচ্ছে। নদীতে নাব্য সংকট, ভাঙন, ঘনকুয়াশা ও বর্ষা মওসুুমে সৃষ্ট প্রবল স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহতসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। এতে পাটুরিয়া ঘাটে যানজট ও যাত্রীদের ভোগান্তি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
