ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার হবে চার জাতীয় মহাসড়কে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:২৮

দেশের চার জাতীয় মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এসব বিশ্রামাগারে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, চালকদের রাত যাপনের ব্যবস্থা, বিনোদনের জন্য টিভি, ওয়াশরুম, চা-কফিসহ পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হবে। দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী বাসচালক ও যাত্রীদের স্বল্প বিরতি নেওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকলেও দূরপাল্লার ট্রাকচালকদের জন্য কোনো বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে ট্রাকচালকেরা অনেক সময় সড়কের পাশে ট্রাক থামিয়ে বিশ্রাম নেন; যা পক্ষান্তরে যানজটের সৃষ্টি করে অথবা দ্রুত বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এতে করে মহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এজন্য ২২৬ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধাসংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দেশের চারটি প্রধান জাতীয় মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রংপুর এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আধুনিক সুবিধাসংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন করা হবে। আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে দুই বছরের মধ্যে এই বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে। কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এবং মাগুড়া জেলার নিমসার, জগদীসপুর, পাঁচিলা ও লক্ষ্মীকান্দর স্থানে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কের পাশে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি করতে ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ছিল। সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চালক কর্তৃক একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় গাড়ি চালনা না করা, ট্রাকচালকের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ঘুমানো, চালক পরিবর্তন এবং যানবাহনের বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যাগুলো দূরীকরণের জন্য মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগারগুলো ব্যবহার করা হবে। এর ফলে চালকদের ভ্রমণজতিন ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ট্রাক ছাড়াও লরি ও কাভার্ডভ্যান চালকরা যাতে এর সুবিধা পায় সে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।