পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশেরই বিচার হয়েছে। এখনো যারা বিদেশে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সূত্রাপুর থানা আয়োজিত এক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, মানবভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এখনো ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই প্রত্যেকের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতে হবে। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিলো তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আফ্রিকা, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে। আমরা ঐসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনবো। এম এ মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লক্ষ প্রাণ দিয়ে আমরা একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। ঋণ শোধ করার জন্য আমরা তাঁর নাম বার বার স্মরণ করি। তাই শুধু স্মরণ করলেই হবে না, কাজও করতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু স্বাধীন একটি দেশ দিয়ে গেছেন। কথা বলার অধিকার দিয়ে গেছেন। তিনি আরো বলেন, “২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিদেশে পলাতক মূল আসামিদের বিদেশ থেকে দ্রুত ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা যদি দেশে ফিরে না আসতেন জেনারেল জিয়া এ দেশটাকে পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য বানিয়ে ফেলতেন।” ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জেনারেল জিয়া জড়িত ছিল’—উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘পর্দার অন্তরালে সবকিছু করেছে জেনারেল জিয়া। আর তারই ছেলে তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে ২১ আগস্ট হত্যার চক্রান্ত করেছিল। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সূত্রাপুর থানা সভাপতি অধ্যক্ষ আহসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতা কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, কৃষক লীগ নেতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ‘রংতুলিতে সংগীতে আবৃত্তিতে বঙ্গবন্ধু’ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
