প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার নারিকেল গাছের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় নারিকেলের উত্পাদন একেবারে কমে গেছে। দেশে নারিকেলের উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার উচ্চ ফলনশীল নারিকেলের চাষের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালের দিকে ভিয়েতনাম এবং ভারতের কেরালা থেকে খাটো আকৃতির নারিকেল গাছের চারা এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি কৃষি খামারে চাষ করে সফলতা পাওয়া যায়। এসব নারিকেল চাষের জন্য বাংলাদেশের মাটি এবং জলবায়ু খুবই উপযোগী। ভিয়েতনামের নারিকেল মধ্যে দুই ধরনের নারিকেল গাছ রয়েছে। একটি হলো সায়াম ব্লু এবং অপরটি হলো সায়াম গ্রীন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, দেশের প্রায় এক হাজার জায়গায় ভিয়েতনামের নারিকেলের চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪০ কোটি নারিকেলের চারা রোপণের সুযোগ রয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ভিয়েতনামের নারিকেল গাছের বৈশিষ্ট্য হলো চারা রোপণের তিন বছরের মাথায় ফলন আসে। অপরদিকে দেশি নারিকেল গাছের চারা রোপণের পর আট থেকে দশ বছর পর ফলন আসে। ভিয়েতনামের খাটো আকৃতির গাছে গাছ লাগানোর তিন বছর পর থেকে প্রতিটি গাছে প্রতিবছর ২০০টি করে নারিকেল উত্পন্ন হয়। দেশি নারিকেল গাছে বছরে প্রতিটি গাছে ৬০ থেকে ৭০টি নারিকেল ধরে। ভিয়েতনামের নারিকেল গাছের উচ্চতা এক ফুট হলেই ফলন আসে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চাষীদের মাঝে বিতরণের উদ্দেশ্যে সরকার চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ভিয়েতনামী নারিকেল গাছের চারা মজুদ করেছে। বর্তমানে ভিয়েতনামী খাটো আকৃতির উচ্চফলনশীল নারিকেল গাছের চারা শুধুমাত্র সরকারি নার্সারিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি নারিকেল গাছের চারার দাম পাঁচশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী চাষীরা তাদের স্বস্ব এলাকার সরকারি নার্সারি থেকে নারিকেল গাছের চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা পড়ে আছে যেখানে অনায়সে ভিয়েতনামী নারিকেল গাছের টারা রোপণ করা সম্ভব। বিশেষ করে দেশের পার্বত্য অঞ্চলেও এই নারিকেল গাছের চাষ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ভিয়েতনামের উচ্চ ফলনশীল এই নারিকেল গাছ সম্পর্কে দেশের মানুষ তেমন অবগত নন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি বিভাগ ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে দেশে প্রতি বছর শ্রীলঙ্কা, ভারত, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া, নিউগিনিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় বিশ হাজার টন নারিকেলের কোপড়া আমদানী করা হয়। আমাদের দেশে প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত নারিকেল থেকে ৫০০ টন কোপড়া পাওয়া যায়। দেশে নারিকেলের উত্পাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ হবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ হবে।
