ন তুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা অবন্তী হিমিকা। ব্যবসায় পড়াশোনা শেষে পুরোদমে কাজে নেমেছেন। ব্যবসার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা এই তরুণ উদ্যোক্তা বললেন, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকলে ব্যবসা বেশিদিন টিকে না। তাই সমাজ ও দেশটাই সবার আগে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরত আসা হিমিকা ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের পরিচালক। পড়াশোনায় যেমন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি ব্যবসায়ও চান সফল হতে। নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। বললেন, এবারে হাতে-কলমে শিখছি। তবে স্বপ্ন তার অনেক বড়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনটি গ্রুপকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগুচ্ছেন। তারমতে, এই তিনটি গ্রুপের স্বার্থকে বড় করে দেখলে সাফল্য আসবেই। প্রথম গ্রুপ হচ্ছে— কোম্পানিতে তার সহকর্মীরা। তাদের চাহিদা ও স্বপ্ন পূরণে কোম্পানি কতোটা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে সেদিকটি হিমিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, ক্রেতা বা ভোক্তা। তারা পণ্যের মান নিয়ে সন্তুষ্ট কি না সেটি যাচাই করতে হবে। উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, আমাদের গ্রুপের ওয়ান ফার্মা ওষুধ উত্পাদন করে। ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে আমাদের ওষুধের নামটি লিখলো। সেজন্যই কি ক্রেতা কিনবে? নাকি সে জানবে এই ওষুধটি বাজারে অন্যটির চেয়ে ভাল। সেই জায়গাটায় আমরা যেতে চাই। তৃতীয় গুরুত্বের দিকটি হচ্ছে দেশ ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা। ব্যবসা করবো, সামাজিক দায়িত্ব পালন করবো। তবে ট্যাক্স ফাঁকি দেব না।
ওষুধ ছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি, সোলার, এক্সেসরিজসহ অন্যান্য ব্যবসায়ও জড়িত অবন্তী হিমিকা। বললেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ছাড়া ব্যবসায় স্থায়িত্ব গড়া সম্ভব নয়। ব্যবসাকে আমি শুধু ব্যবসার মতো করেই ভাবছি না, এর মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের যে সুযোগ রয়েছে তা কাজে লাগাতে চাই। প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়ে, কোম্পানিতে কর্মরত সহকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নও আমাদের লক্ষ্য। সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখাটাই আমি মনে করি একজন উদ্যোক্তার মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। শুধু প্রফিট ম্যাক্সিমাইজেশন চিন্তা করলে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গাটা থাকে না। আমাকে চিন্তা করতে হবে আমার ক্রেতাদের কথা। যাদের জন্য পণ্য তৈরি করি, যাদের মাধ্যমে করি এবং উভয়ের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। হিমিকার মতে, পণ্যের গুণগতমান বলতে শুধু পণ্যটিকেই দেখলে হবে না। বরং পণ্যটি কোনো পরিবেশে উত্পাদিত হচ্ছে— সে পরিবেশটি মানসম্মত পণ্যের জন্য সহায়ক কি না, সেটিও দেখতে হবে। যে লোকগুলো কাজ করছে, যে মেশিন চলছে-এক কথায় টেনজিবল বা ইনটেনজিবল— সব মিলিয়েই মানের কথা ভাবতে হবে। তবেই আমরা সত্যিকারের গুণগতপণ্য বাজারে দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারি। আমার কোম্পানি যেন অন্য কোম্পানিগুলোর চেয়ে আলাদা হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কোম্পানির মানদণ্ডই হবে যে, এটি অন্যদের চেয়ে আলাদা।
অবন্তী হিমিকা প্রযুক্তি নিয়েও সচেতন। বললেন, প্রযুক্তি ক্রমশ পরিবর্তনশীল। কাজেই সবসময়ই নিত্যনতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা শুধু অভ্যন্তরীণভাবেই নয়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি। কাজেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদেরকে করতেই হবে। পাশাপাশি গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে। প্রতিযোগীরা কি করছে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
সাক্ষাত্কার গ্রহণ: ইসরাত জাহান প্রিয়াঙ্কা
