আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি শ্রেণি ও কোম্পানি করদাতাকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে ঝামেলামুক্ত উপায়ে কর প্রদানের জন্য করদাতাদের একটি বড় অংশ আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএনধারী রয়েছে ৩২ লাখের উপরে। এর মধ্যে গত কর বর্ষে ২০ লাখের মতো রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। আগামী ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। অতীতের ন্যায় এবারো ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে এ মেলা চলবে এক সপ্তাহব্যাপী। এর বাইরে জেলা শহরগুলোতে চার দিন, ৩২টি উপজেলায় দুই দিন এবং ৭০টি উপজেলায় ১ দিন করে মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজস্ব বিভাগ।
এনবিআর অতীতে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া ও অনলাইন ব্যবস্থায় কর পরিশোধের উদ্যোগ নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এবারো অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ও করের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এতে করদাতারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। চলতি নভেম্বর মাসব্যাপী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ করদাতা রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নভেম্বরের পর কোনো টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দিতে হলে প্রতি দিনের জন্য নির্দিষ্ট হারে সূদ গুণতে হবে।
বর্তমানে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা। আড়াই লাখ টাকার উপরে আয় হলে, নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হবে। মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার করমুক্ত আয়ের সীমা সোয়া চার লাখ টাকা। এর উপরে আয় হলে আয়কর দিতে হবে। সাধারণ করদাতাদের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকার উপরে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ১০ শতাংশ। এর পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর করহার ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী যে কোনো পরিমাণ আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাত্ বছরে কারো মোট আয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এছাড়া কিছু খাতের আয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাত্ তামাকজাতীয় পণ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশে অনিবাসী শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তির করদায় ৩০ শতাংশ এবং নিবন্ধিত সমবায় সমিতির আয়ের উপর করের হার ১৫ শতাংশ।
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রম না করলে কোনো কর দিতে হয় না। তবে করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রম করার পর এলাকাভিত্তিক সর্বনিম্ন কর প্রযোজ্য রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এটি পাঁচ হাজার, অন্য সিটি করপোরেশন এলাকার করদাতার জন্য চার হাজার ও বাদবাকি এলাকার ক্ষেত্রে তিন হাজার টাকা ধার্য রয়েছে।
এছাড়া যাদের অপেক্ষাকৃত বেশি সম্পদ রয়েছে তাদের উপর সারচার্জ (মাশুল বা করের উপর কর) প্রযোজ্য রয়েছে। সম্পদ সোয়া দুই কোটি টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে সারচার্জ ১০ শতাংশ। ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, ১০ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, ১৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং ২০ কোটি টাকার উপরে সম্পদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে। অবশ্য এনবিআরের খাতায় এ সম্পদশালীর সংখ্যা মাত্র কয়েক হাজার।
