সেদিন হঠাত্ করে মাছিদের নেতা শহরে মাইকিং শুরু করল, ‘ভাইসব, ভাইসব, একটি জরুরি ঘোষণা। আগামীকাল সকাল দশ ঘটিকার সময় ঢাকা শহরের গুলশান ভিআইপি ডাস্টবিনে এক জরুরি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত প্রতিবাদ সভায় আপনারা দলে দলে যোগদান করে নির্যাতিত অবহেলিত মাছিদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট ভূমিকা রাখুন। উক্ত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ‘ব্লো মাছি’।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন ‘হাউস মাছি’।
উক্ত সভায় আরো মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন ‘বালি মাছি’, ‘ট্যাবাডিন মাছি’সহ আরো অনেকে।
উক্ত সভায় দলমত নির্বিশেষে দলে দলে যোগদান করে সভাকে সাফল্যমণ্ডিত ও অর্থবহ করে তুলুন।
প্রচারে সংগ্রামী মাছি কমিটি।
ভাইসব ভাইসব...’
পরের দিন সকাল হতেই দলে দলে সব শ্রেণিপেশার মাছি ফেস্টুন, ব্যানার আর মিছিল নিয়ে গুলশান ভিআইপি ডাস্টবিনের দিকে আসতে থাকে। সকাল দশটা নাগাদ গুলশান ভিআইপি ডাস্টবিনের আশপাশ এলাকা মাছির সমুদ্রে পরিণত হয়। ‘ব্লো মাছি’ প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করার পর সভাপতির অনুমতি ক্রমে ‘ময়ূর মাছির’ উপস্থাপনায় প্রতিবাদ সভার কার্যক্রম শুরু হয়। একেক করে ট্যাবাডিন মাছি, স্টেবল মাছি, সিরফিড মাছি, বালি মাছিসহ সব মাছি তাদের ব্যর্থতা এবং বর্তমানের সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সবশেষে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ প্রধান অতিথি ‘ব্লো মাছি’ তার মূল্যবান বক্তব্য শুরু করেন—
প্রিয় মাছি ভাই ও বোনেরা আপনারা সকলে জানেন, আমরা মাছি সমাজ আজ নানাভাবে অবহেলিত এবং আমাদের অস্তিত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। একসময় মানুষজন মশার সঙ্গে আমাদের তুলনা করে বলত, ‘রাতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে কলকাতায় আছি’। আজ সেই দিন হারিয়ে গেছে। আজ মানুষজন আমাদের নাম ভুলেও মুখে আনে না। আপনারা বাস্তবতা অনুধাবন করুন। চারপাশে চেয়ে দেখুন। সবখানে শুধু মশাদের জয়জয়কার। আমাদের কার্যক্ষমতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। মশাদের এই রকম উত্থানের ফলে মানুষজন আজ আমাদের ভুলে যেতে বসেছে। আজ দেশের সকল সংবাদপত্র, মিডিয়া আর মানুষের মুখে মুখে শুধু মশাদের নাম। এমন কি বিশ্ব মিডিয়াতেও তারা হাইলাইটেড হয়ে এসে গেছে। একবার ভাবতে পারেন তারা কত দাপটের সঙ্গে সবকিছু নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এসেছে। সবারই উত্থান-পতন আছে। আজ তাদের, কাল হয়তো আমাদের হতে পারে। কিন্তু সংগ্রামী সাথি ও বন্ধুরা আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের একটি গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস আছে। আমাদের পূর্ব পুরুষরা কলেরা, টাউফয়েড, কালাজ্বর, আমাশয়সহ মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে মহামারি লাগিয়ে গ্রামের পর গ্রাম মানবশূন্য করে দিয়েছে। মানুষ ভয়ে তখন ঘর থেকে বের হতো না। আজ আমাদের অবস্থান কোথায় চলে এসেছে। হাসপাতালগুলোতে আমাদের রোগের রুগী নেই বললেই চলে। আমরা আমাদের হারানো ইতিহাস আবার ফিরিয়ে আনতে চাই। সবাই শুধু জি জি করলে হবে না। মাঠে নেমে প্রতিপক্ষকে দেখিয়ে দিতে হবে আমরাও পারি। আমাদেরও ক্ষমতা আছে। মানুষজন আমাদের ব্যাপারে বেশি সচেতন হয়েছে বলেও আমাদের এই দুরবস্থাকে দায়ী করতে পারি। আজকে তারা সবকিছুতে ফরমালিন নামক বিষাক্ত তরল পদার্থ মেশাচ্ছে যাতে আমরা বসতে না পারি। চোর যত সতর্ক হয়ে চুরি করুক না কেন, নিশানা কিন্তু একটা রেখেই যাবে। ঠিক তেমনি মানুষ যত কিছুই করুক, ফাঁকফোকর কিন্তু থাকবেই। আমাদের উদ্দেশ্য হতে হবে সেই ফাঁকফোকরগুলো খুঁজে কাজে লাগানো। এখনই আমাদের জেগে উঠতে হবে। যার যতটুকু ক্ষমতা আছে, তা-ই নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমাদের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে হবে। হাউজ মাছিদের উদ্দেশ্য করে বলব, আপনারা ঘরে বসে না থেকে একটু বাইরে যান। একটু শারীরিক ব্যায়াম করুন। খুঁজে খুঁজে দেখুন কোনখানে মারাত্মক জীবাণু আছে। সেখান থেকে জীবাণু সংগ্রহ করে হোটেল, রেস্তোরাঁ আর বাসাবাড়ির খাবারে সঙ্গে ছলেবলে কৌশলে মিশিয়ে দিন। দেখবেন ডাইরিয়ার মতো রোগ সহসা মহামারি আকার ধারণ করে, মানুষের মাঝে কত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রিয় বালি মাছিকে বলব, আপনারা একেবারে অকার্যকর হয়ে গেছেন। আজ হাজারে একজন মানুষের শরীরে কালাজ্বর নেই। আপনারাও জেগে উঠুন। আপনাদের গৌরব ফিরিয়ে আনুন। চেয়ে দেখুন মশারা আজ মানুষের সব নিরাপত্তাকে আঙুল দেখিয়ে কিভাবে জয়ের শিখরে পৌঁছে গেছে। আপনারা তাদের দেখে শিক্ষা নিন। আর সব হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মশাদের সফলতাকে আরো গতিশীল করতে তাদের হাতে হাত মিলিয়ে এই স্লোগানে মেতে উঠুন
মশা-মাছি ভাই ভাই
মানুষের রক্ষা নাই।
তাঁতীসুতা, শ্রীপুর, গাজীপুর।
