রাজারহাটে চামড়ার দাম বাড়লেও হতাশা কাটেনি ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪৯

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত্ চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাটের দ্বিতীয় সপ্তাহের হাটে বাজার কিছুটা চাঙা হয়েছে। তবে ট্যানারি মালিকদের নিয়ে একরাশ ক্ষোভ আর হতাশা রয়েছে ফড়িয়া ও আড়তদারদের মধ্যে। ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেও ট্যানারি মালিকদের রোষানলে পড়ার ভয়ে অনেকেই মিডিয়ার কাছে নাম প্রকাশ করতে চাননি।

গতকাল শনিবার ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় সাপ্তাহিক হাটে চামড়ার সরবরাহ ছিল প্রচুর। প্রথম হাটে চামড়া না ওঠলেও গতকাল প্রায় ৩০ হাজার চামড়া ওঠে এবং এর পুরোটাই নগদ দামে বিক্রি হয়। গতকাল আকার ও মানভেদে প্রতিটি চামড়া ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট চামড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন মুকুল।

সাতক্ষীরার আবুল হাশেম বলেন, ট্যানারি সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে ধস নেমেছে। চামড়ার চাহিদা কমে গেলে ১০ বছর আগের ১৬৫ টাকা দামের জুতা আজ ১২০০ টাকা হবে কেন? বিপরীতে ২ হাজার টাকার চামড়া ৭০০ টাকায় কেন নেমে আসবে? ঈদের পরপরই শিল্পমন্ত্রী কাঁচা চামড়া রপ্তানির যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তা কার্যকর করা গেলে প্রতিটি চামড়া ৩ হাজার টাকায়ও বিক্রি হতো বলে তিনি মনে করেন। এক্ষেত্রে কার স্বার্থে চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসা হলো তা খতিয়ে দেখতে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।

কুষ্টিয়ার মো. আনসার আলী বলেন, ১৫ বছর আগের গরুর চেয়ে এখনকার গরুর মান ভালো। চামড়াও ভালো। তাহলে কেন চামড়ার দাম থাকবে না?

খুলনার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, চামড়ার বাজারে যদি ধসই হয়, তাহলে মাত্র দুই বছর আগে ভারতে যে চামড়ার দাম ছিল ৫০০ টাকা, সেই চামড়া আমাদের এখানে বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকায়। আজ আমাদেরটা ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ঢাকার পোস্তার আড়তদার আব্দুল হালিম নিয়মিত রাজারহাট থেকে চামড়া কেনেন। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারি নেওয়ার পর আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাই। ট্যানারি মালিকদের কাছে শুধু পোস্তার ৭৫ জন আড়তদাররা ১৫৩ কোটি টাকা পাবেন।