জঙ্গিবাদের অভিযোগ পেলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাসপেন্ড করা হবে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৩

ব্যাংক কর্মকর্তাদের জঙ্গিবাদ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারো বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতার তথ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে পেলে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এজন্য সকল ব্যাংক কর্মীদের জঙ্গিবাদ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশনায় ২৭ জুলাই রাজধানীর রূপনগরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হওয়া সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার আহম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) কর্মকর্তারা বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আলী আহম্মদের সকল ব্যাংক একাউন্ট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আহম্মদ আলীর পরিবারের সকল সদস্য জঙ্গিবাদে জড়িত। বিশেষ করে তার বড় ছেলে জাকারিয়া জঙ্গি কার্যক্রম প্রচার ও দাওয়াতী কাজে একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের প্রচারণা চালাতেন জাকারিয়া। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এ ধরণের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ছিল।

গত ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে রাজধানীর রূপনগরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আহম্মদ আলী, তার স্ত্রী সালমা আহাম্মদ, মেয়ে আসমা ফেরদৌসী রিফা, ছোট ছেলে কিবরিয়া ও বড় ছেলে জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। পরে জাকারিয়ার দেওয়া তথ্য থেকে শামসু নামে আনসার আল ইসলামের আরেক সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জাকারিয়ার সঙ্গে আনসার আল ইসলামের পলাতক নেতা মেজর (চাকরিচ্যূত) জিয়ার যোগাযোগ ছিল কিনা- সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, জাকারিয়া অনলাইনে আনসার আল ইসলামের প্রচারণা চালাতেন। রূপনগরের ওই বাড়িতে অবস্থান করে তিনি জঙ্গি প্রচারণা চালাতেন। এ বিষয়ে জাকারিয়ার বাবা, মা ও ভাই বোনদের সম্মতি ছিল। আহম্মদ আলী জঙ্গি কার্যক্রমে কি পরিমাণ টাকা ব্যয় করেছেন, তা এখনও জানা যায়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাকারিয়া চিকিত্সাধীন। তিনি সুস্থ হলে, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে আহম্মদ আলীর পরিবারসহ জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে আজিমপুরে একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইউনিট অভিযান চালালে আনসার আল ইসলামের অর্থের যোগানদাতা ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সাবেক এভিপি তানভীর কাদেরী গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় তানভীর কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা, নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের স্ত্রী আফরিন এবং বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটের স্ত্রী শায়লা আফরিনকে। খাদিজা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তার স্বামী ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। এই টাকা তার স্বামী আনসার আল ইসলামের পেছনে ব্যয় করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল ব্যাংককে তাদের কর্মকর্তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে অফিস চলাকালীন তাদের চলাফেরা ও সামাজিকভাবে ওঠাবসা মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ইউনিটকে নজরদারি করতে বলা হয়েছে।