এনআইডির সেবা

‘বিশেষ সুপারিশে’ অগ্রাধিকার দিতে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ ইসির

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:১৫

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নিয়ে হয়রানির মধ্যেই এক শ্রেণির নাগরিকদের জন্য এবার আলাদাভাবে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভিআইপি (ভেরি ইমপর্টেন্ট পারসন), নির্বাচন কমিশনার ও ইসি কর্মকর্তাদের সুপারিশ থাকলে এই বিশেষ সুবিধা মিলবে। এজন্য নির্বাচন ভবনের নিচতলায় আলাদা কক্ষ বরাদ্দের সুপারিশ এসেছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ সংক্রান্ত কমিটি সম্প্রতি এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় ঐ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নির্দেশনা আকারে ইতিমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুলিপি দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাসহ অন্য কমিশনারদের। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত বৈঠকের কার্যপত্রে বলা হয়েছে- ভিআইপি, নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সুপারিশ করা আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।

যদিও বর্তমানে ইসির সুপারিশ থাকলেই আগে সেবা মেলে। ইটিআই ভবনে অবস্থিত এনআইডির সেবা কার্যালয়ে বিশেষ সুপারিশের কাজেই বেশি সময় ব্যয় হয়। এর ফলে সাধারণ সেবা গ্রহিতারা পড়েন ভোগান্তিতে। সম্প্রতি হাইকোর্ট বলেছে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ছাড়া কেউ ভিআইপি নন। তারপরও বিশেষ সুপারিশে মনোযোগ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির।  এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সুপারিশের হারও বেড়ে যাবে। এটাও তখন বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে।

ঐ কার্যপত্রে অন্য আরেকটি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এনআইডি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পুনরায় এনআইডি সংগ্রহের আবেদন নিষ্পত্তি হতে হবে উপজেলা থেকেই। এক্ষেত্রে সেবাগ্রহিতা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আবেদন করবে। সেটা আঞ্চলিক বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিষ্পত্তি হয়ে সেখানে প্রিন্ট হবে। এরপর তা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই আবেদনকারীকে সরবরাহ করতে হবে। এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে ১৫ দিনের মধ্যে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিতীয় এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ সেবাগ্রহিতার কষ্ট থাকবে না। কেননা এ সেবার জন্য ঢাকার দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন পড়বে না। ইতিমধ্যে এ নির্দেশনাটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান।