কালিহাতীর গুরুত্বপূর্ণ জনপদ এলেঙ্গায় প্রতিদিন বসে মানুষ বেচা-কেনার হাট। শ্রমিকের জন্য এলেঙ্গা হয়ে উঠেছে জীবন-জীবিকার প্রধান আশ্রয়স্থল। তাইতো তারা এলেঙ্গায় ছুটে আসে। প্রতিদিন ভোরে সমবেত হয় এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে।
সরেজমিনে জানা গেছে, কালিহাতীর নয়, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, জামালপুর এবং শেরপুর জেলা থেকেও শ্রমিকেরা এসে ভীড় জমায় এলেঙ্গায়। ভোরের এলেঙ্গায় পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের শ্রমিক। তাদের কেউ দিনমজুর আবার কেউ বা দীর্ঘমেয়াদি গৃহশ্রমিক। প্রতিদিন ভোরে দর কষাকষি করে চলে শ্রমিক বেচাকেনা। স্থানীয় ভাষায় ‘কামলা’ নামে পরিচিত এই শ্রমিকদের মজুরিও উঠানামা করে সময়ের উপর নির্ভর করে। সাধারণত ৩শ’ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দুবার খাবারের বিনিময়ে ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দিনমজুর হিসেবে বাসাবাড়ি অথবা মাঠে কাজ করে এরা। তবে ধান কাটার মৌসুমে এদের চাহিদা বেশি থাকে বলে তখন মজুরি হয় ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা পর্যন্ত। মাটি কাটার শ্রমিকদের বলা হয় কোদাল পাইছার কামলা। এরা কাজ করে বেলা ১টা পর্যন্ত। মাটি কাটা শ্রমিকদের কোনো খাবার দিতে হয় না বলে এদের বলা হয় ‘আধ খোরাকী কামলা’। মাটি কাটা শ্রমিকরা চুক্তিভিত্তিক কাজও করে।
জানা গেছে, মানুষ কেনা-বেচার এই হাটের স্থায়িত্ব ৪০ মিনিট থেকে বড়জোর এক ঘণ্টা। সকাল ৭টার পর তেমন চাহিদা থাকে না কারও। তখন অনেকে কম মজুরিতেও কাজ করে বলে জানালেন এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা মো. আবুল মিয়া। যারা প্রতিদিন কাজ পায় না তারা ওই দিনের জন্য রিকশা অথবা অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালায়। এর জন্য মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাও দিতে হয়। কাজ শেষে বাজার করে ফিরে যায় নিজ নিজ বাড়িতে। অন্য জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা আশপাশের কোনো দোকানে রাত কাটায়।
আনালিয়াবাড়ী থেকে আসা শ্রমিক মো. সিদ্দীক আলী জানান, এলেঙ্গার বাজার ভালো। কিন্তু সারা বছর কাজ থাকে না। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে তাদের অলস সময় কাটাতে হয়। তখন সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়।
পেটের দায়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসা এসব শ্রমিকদের চাহিদা শুধুমাত্র জীবিকার। তাদের বেঁচে থাকতে হয় সংগ্রাম করে। তারপরও জীবন সংগ্রামে এরা যেনো অপরাজিত সৈনিক।
