রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী)

ঐক্যফ্রন্টের ৩ প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মহাজোটের একক প্রার্থীতে স্বস্তি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৩

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ৫২ রাজশাহী-১ তানোর-গোদাগাড়ী আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নে টিকে আছেন। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, তার স্ত্রী আভা হক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিন প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দুইবারের নির্বাচিত এমপি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী দলীয় একক প্রার্থী হওয়ায় তিনি রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে।

এ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় ভোটের মাঠে ঐক্যফ্রন্টের হয়ে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তবে ব্যরিস্টার আমিনুল হক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিয়ম সভা করলেও তার স্ত্রী আভা হককে নির্বাচনী এলাকায় আসলেও নির্বাচনের মাঠে এখনও দেখা যায়নি। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ভোটের মাঠে তার কোনো প্রকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাছাড়া দুই মেয়াদে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং গোদাগাড়ী পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাই জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, এখানে রয়েছে জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংক। আর এ কারণেই এবারের সংসদ নির্বাচনে জোটের কাছ থেকে এই আসনটি দাবি করছেন তারা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসনে টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে আমিনুল হকের পরিবর্তে তার ভাই পুলিশের সাবেক আইজি এনামুল হক বিএনপি’র প্রার্থী হন। সেবার এনামুল হক পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীর কাছে। এরপর থেকেই টানা দুই মেয়াদে এই আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।

সব মিলিয়ে এদের মধ্যে কে হবেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, তা নিয়ে এখনো দ্বিধা কাটেনি ভোটারদের। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা চায় অধ্যাপক মুজিবর রহমানকে। আর বিএনপি দীর্ঘদিন নেতৃত্বশূন্য থাকায় ব্যারিস্টার আমিনুল হককে চান ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে। এ নিয়ে তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান জানান, রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক যে উন্নয়নের ছোঁয়ায় আলোকিত করেছেন তা সাধারণ মানুষ ভুলেনি। তাই তানোর-গোদাগাড়ীতে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের কোনো বিকল্প নেই। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিপুলভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে মহাজোটের একক প্রার্থী হিসেবে ওমর ফারু চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে নির্বাচনী মাঠে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এ নিয়ে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাজশাহী-১ তানোর-গোদাগাড়ী আসনে যে উন্নয়ন হয়েছে তার রূপকার ওমর ফারুক চৌধুরী। তাই আগামীতে আরও উন্নয়ন দেখতে চাইলে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোন বিকল্প নেই। তিনি আশাবাদী বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী বিজয়ী হবেন।