নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস

জেএমবির বোমা হামলার ১৩ বছর আজ পাঁচ মিনিট স্তব্ধ নেত্রকোনা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৩

আজ শনিবার ৮ ডিসেম্বর। নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস। নেত্রকোনায় বোমা হামলার ১৩তম বছর। ২০০৫ সালের এই দিনে নেত্রকোনা শহরের অজহর রোডস্থ উদীচীর অফিসের সামনে জেএমবির বোমা হামলায় আত্মঘাতি হামলাকারীসহ আটজন নিহত হন। এ উপলক্ষে আজ সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাঁচ মিনিট স্তব্ধ থাকবে নেত্রকোনা। এ সময় শহরের রাস্তায় চলবে না কোনো যানবাহন, হাঁটবে না কোনো পথচারী। সকাল ১০টা ৪০ বাজার সঙ্গে সঙ্গে সকলেই নিজ নিজ কাজ ফেলে রেখে রাস্তায় নেমে আসবে। শ্রদ্ধা জানাবে ৮ ডিসেম্বর বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি। পাশাপাশি ঘৃণা জানাবে ধর্মান্ধ দেশদ্রোহী জঙ্গিগোষ্ঠীকে।

২০০৫ সালে আজকের এই দিনে সকাল বেলায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নেত্রকোনা জেলা সংসদ কার্যালয়ের সামনে চলছিল ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে উদীচীর প্রস্তুতি। উদীচী অফিসের কাছাকাছি একটি বোমা ফেলে রাখা হয়। এই বোমা দেখতে উদীচীর কর্মকর্তাসহ সুধিজন এবং তত্কালীন পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছার মুহূর্তে জেএমবির এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বাইসাইকেলে এসে বোমাটি ফাটায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারান নেত্রকোনা উদীচীর সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলি, মোটরসাইকেল মেকানিকস যাদব দাস, পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী রানী আক্তার, মাছ বিক্রেতা আফতাব উদ্দিন, শ্রমিক রইছ মিয়া, ভিক্ষুক জয়নাল ও আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী আল বাকি মো. কাফিসহ আটজন। আহত হন উদীচীর সাবেক সভাপতি সানাওয়ার হোসেন ভুঁইয়াসহ অর্ধশতাধিক লোক।

এদিকে, ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজনহারা পরিবারগুলো এখনো অসহায় হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

নিহত খাজা হায়দার হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, আমার পরিবারে স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।

দিনটি উপলক্ষে নেত্রকোনার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল নয়টায় কাল পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ, সাড়ে নয়টায় উদীচী ট্র্যাজেডি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ৫ মিনিট স্তব্ধ নেত্রকোনা (রাস্তায় দাঁড়িয়ে সর্বস্তরের মানুষের নীরবতা পালন), বেলা ১১টায় শহরের ছোটবাজার এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রতিবাদ মিছিল, বেলা ১২টায় শহীদদের কবর জিয়ারত, শ্মশানের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত্। বিকেল সাড়ে ৪টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সন্ত্রাস, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।