পাঁচ বছরে সংসদ সদস্যের টাকার পরিমাণ হাজার ছেড়ে কোটিতে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৪

মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মতিনের আয় ও সম্পদ বেড়েছে লক্ষণীয় হারে। ২০১৪ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে যখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তখন তার কাছে নগদ অর্থ ছিল মাত্র ৪০ হাজার টাকা। বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি ২০১৪ সালে ১০ম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ঐ সময় দেওয়া হলফনামার তথ্য মতে তার পেশা ছিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। ঐ পেশা থেকে পাওয়া সম্মানী বাবদ তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের কাছে ছিল নগদ ৪০ হাজার টাকা, ব্যাংকে কোনো টাকা থাকার কথা উল্লেখ ছিল না। স্ত্রীর নামে ছিল ৬০ হাজার টাকা মূল্যের পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৪০ হাজার টাকার বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও যৌথ মালিকানায় ৫ একর স্থাবর সম্পদ।

এই বছর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে তিনি যে হলফনামা দাখিল করেছেন তাতে পেশা হিসাবে কৃষি উল্লেখ করেছেন। আয়ের কোনো বর্ণনা না থাকলেও অস্থাবর সম্পদ হিসাবে নিজের কাছে ছিল নগদ ৬০ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩ টাকা। ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৪৫ লাখ ১৯ হাজার ৪’শ ৩ টাকা। ৭১ লাখ, ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ২টি নোহা গাড়ির মধ্যে একটির মূল্য ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা অপরটির মূল্য ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের কৃষি, অকৃষি ও দালানসহ ১৯০ শতক ভূমি। সংসদ সদস্যের স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ও ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র। হলফনামায় ঋণের কোনো উল্লেখ নেই।

গত পাঁচ বছরে সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্পর্কে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংসদ সদস্য হিসাবে প্রাপ্ত সম্মানী ও আনুষঙ্গিক সুযোগ সুবিধা থেকে তার আয় বেড়েছে। তা ছাড়া তার হলফনামায় কিছু ভুল রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের টিকেট না পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মহাজোটের প্রার্থী থাকলে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিব।