২৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা উইলিয়ামস রেকর্ডে চোখ রেখেই শুরু করতে যাচ্ছেন ইউএস ওপেনের এবারের আসর। টেনিস বিশ্বের খুবই মহত্ত্বপূর্ণ এই আসরটি মাঠে গড়াচ্ছে আজ থেকে। রেকর্ড ২৪টি জিতে সবার ওপরে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার মারগারেট কোর্ট। তাই এবারের ইউএস ওপেন দিয়েই কোর্টকে স্পর্শ করার লক্ষ্য সেরেনার। সেটা হয়ে গেলে অপেক্ষা থাকবে কেবল কোর্টকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। ৩৭ বছর বয়সী সেরেনা সেটা পারবেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়!
সেরেনা অবশ্য চ্যালেঞ্জটা নিতে মুখিয়ে আছেন। বললেন, ‘আমি ক্যারিয়ারে এখন যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, তাতে এই শিরোপাটা জিতে গেলে দারুণ একটা ব্যাপার হবে। এই মুহূর্তে আমি আমার ক্যারিয়ারটাকে অনেকগুলো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আর নিজের লক্ষ্যগুলোকেও আরেকটু বাড়িয়ে নিচ্ছি। জীবনে অনেক কিছুই আছে আমার। প্রতিটাই কমবেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার ওপরে আমি অবশ্যই টেনিসকেই রাখব।’এবারের আসরে অষ্টম বাছাই হিসেবে খেলতে হচ্ছে সেরেনাকে। সেরেনাকে প্রথম রাউন্ডেই বড়ো পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। কারণ সামনে যে দাঁড়িয়ে আছেন রাশিয়ান তারকা মারিয়া শারাপোভা। রেকর্ড অবশ্য এগিয়ে রাখছে সেরেনাকেই। কারণ শারাপোভার বিপক্ষে ২১ দেখায় ১৯ বারই জয় পেয়েছেন সেরেনা।
গেলবারই অবশ্য সেরেনার সামনে শিরোপা জয়ের দারুণ একটা সুযোগ ছিল। তবে সরাসরি সেটেই সেরেনাকে হারিয়ে দেন তিনি। ৬-২ ও ৬-৪ গেমে জয় পান ২১ বছর বয়সী নাওমি ওসাকা। ইউএস ওপেন ছাড়াও চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেছিলেন ওসাকা। ফলে নারী টেনিসে তিনি এখন বড়ো একটা নাম। আর এবার শীর্ষ বাছাই বছরের শেষ গ্র্যান্ডস্ল্যামটাও নিজের করে নিতে মরিয়া। বললেন, ‘গেল বছর আমি তিন ম্যাচ হেরে এখানে খেলতে এসেছিলাম। তাই আমি শুধু ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটা সুযোগ খুঁজছিলাম, যেন সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারি। এই বছর আমি পরপর দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছি। তাই নিজেকে নিয়ে আমি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’ পুরো টেনিস বিশ্বের মতো ওসাকাও সেরেনা-শারাপোভার লড়াই দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। বললেন, ‘আমি এই ম্যাচটি দেখব। আমার মনে হয়, ম্যাচটি দেখতে সবাই কোর্টে যাবে। প্রথম রাউন্ডেই এই ম্যাচ হওয়াতে আমি মোটেও বিস্মিত নই। কারণ প্রতিটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের শুরুতে কিছু নাটক হয়ে থাকে। তাই এই ম্যাচটিও এমন হতে পারে।’
চতুর্থ বাছাই রোমানিয়ার সিমোনা হালেপেরও চোখ শিরোপায়। দুটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিক হালেপ। তবে ইউএস ওপেনে সেমিফাইনালের গণ্ডিই পার হতে পারেননি তিনি। সেটিও ২০১৫ সালে। তবে ২০১৮ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ২০১৯ সালে উইম্বলডনের শিরোপা জয় করেন হালেপ। ছেলেদের লড়াইয়ে শিরোপার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তিন বড়ো তারকার মধ্যে। তারা হলেন: রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জকোভিচ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন সুইস তারকা রজার ফেদেরার। স্পেনের নাদাল জিতেছেন ১৮ বার। ১৬টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন সার্বিয়ান তারকা জকোভিচ। তবে ইউএস ওপেনে ফেদেরার চেয়ে বেশি শিরোপা জিততে পারেননি জকোভিচ-নাদাল। ফেদেরার পাঁচ বার, জকোভিচ-নাদাল তিন বার করে শিরোপার স্বাদ নেন। ইউএস ওপেনের রেকর্ডে পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন জকোভিচ। সর্বশেষ পাঁচটি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মধ্যে চারটিই জিতেছেন তিনি। তাই এবার ইউএস ওপেনের বর্তমান এই চ্যাম্পিয়ন। বললেন, ‘ইউএস ওপেনের শিরোপা ধরে রাখা আমার জন্য অনেক বড়ো চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। এটা সবাই জিততে মরিয়া হয়ে থাকবে। এটা এমন একটা আসর যেখানে সবাই নিজেকে প্রমাণ করতে চায়, নিজের সেরা খেলাটা খেলতে চায়।’
আত্মবিশ্বাসী নাদালও। তিনি বলেন, ‘যেকোনো বড়ো আসরেই আরো ভালো কিছু করার তাড়না বোধ করি। এই সময় ক্যারিয়ারের সব ইতিবাচক ব্যাপারগুলো মনে করার চেষ্টা করি। এসব আমাকে আত্মবিশ্বাস যোগায়। আশাকরি, আমার আগামী কয়েকটা দিন বেশ ভালো কাটবে।’
