গরুর চেয়ে মহিষের মাংস ও দুধের পুষ্টিগুণ বেশি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৬

মহিষের মাংসের দাম আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে গরুর মাংসের চেয়ে কম হওয়ায় ভোক্তাদের অনেকের মধ্যে মহিষের মাংস সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। যদিও গরুর চেয়ে মহিষের মাংস ও দুধের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। হয়তো এ কারণে চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় মহিষের মাংস বেশ জনপ্রিয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং  যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগসহ (ইউএসডিএ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, গুণগত মানের দিক দিয়ে গরুর দুধ ও মাংসের তুলনায় মহিষের দুধ ও মাংস বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। মহিষের দুধে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মহিষের দুধ ঘন ও ননিযুক্ত হওয়ায় এটি ইয়োগার্ট বা দই, পনির, ননিযুক্ত মিষ্টি উত্পাদনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এছাড়া ঘি, মাখনসহ দুগ্ধজাত বিভিন্ন পণ্য উত্পাদনেও এর জুড়ি নেই। এছাড়া গরুর দুধের তুলনায় মহিষের দুধ অনেক বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। মহিষের মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ মুরগির চেয়েও কম। এতে ক্যালরি ও প্রয়োজনীয় চর্বিজাতীয় উপাদান গরুর দুধের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ভিটামিনের উপস্থিতির কারণে মহিষের দুধ গরুর তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন মহিষের মাংসের চাহিদা বাড়ছে। উভয় মাংসের স্বাদ প্রায় একই রকম হলেও, মহিষের মাংসে প্রোটিন তুলনামূলক অনেক বেশি। গরুর মাংসে চর্বির পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হলেও, মহিষের মাংসে তা মাত্র ২ শতাংশ। অন্যদিকে গরুর তুলনায় মহিষের মাংস কম লাল হলেও মহিষের মাংসে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। এটা ভোক্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে মহিষের মাংসকে গরুর মাংস বলে বিক্রির প্রবণতা কমবে এবং মহিষের মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়বে।

মো. জিল্ল­ুর রহমান

সতিশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা