প্লট দিলে সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫২

একাদশ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় দুই মাসের মধ্যে সরকারের কাছে ১০ কাঠার একটি প্লট চেয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সরকার প্লট দিলে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকবেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদনে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ঢাকার পূর্বাচলে তার ১০ কাঠার একটি প্লট প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, ঢাকায় তার কোনো জমি বা ফ্ল্যাট নেই। ওকালতির বাইরে তার কোনো পেশা বা ব্যবসা নেই। ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলে তিনি ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকবেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্লট চেয়ে রুমিন ফারহানার একটি আবেদন পেয়েছি। আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রুমিন ফারহানা গত ৯ জুন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। আর প্লটের জন্য আবেদন করেন ৩ আগস্ট।

রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে। রুমিন ফারহানা সংসদে যোগ দিয়ে প্রথমদিন বক্তব্যে সংসদ ও সরকারকে অবৈধ বলে বক্তব্য দিলে তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে সাধুবাদ জানায়।

প্লটের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার ফেসবুক হ্যাক হয়ে আছে গত একমাস ধরে সেজন্য আমি বিষয়টি দেখিনি। তবে  ফেসবুকে আমার যেই চিঠিটা ভাইরাল হয়েছে সেটা না অবৈধ না অনৈতিক। কোনোটাই না। এই কারণেই নয় যে, এই সুবিধাটা রাষ্ট্রীয় সুযোগ বা রাষ্ট্রীয় অধিকার। একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্র থেকে জায়গার জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে, তিনি একটি ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আনতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে, তিনি বেতন-ভাতা পান এবং তিনি পাঁচ বছরের জন্য একটা এ্যাপার্টমেন্ট পান—এই চারটি জিনিস হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ। এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ যেই সংসদ সদস্য হবেন সেই রাষ্ট্র থেকে পাবেন। সেই সুবাদে আমি একটি আবেদনপত্র দিয়েছি। শুধু আমি একা নই, অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ এমপি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছেন।

আমরা প্রশ্ন হলো—আমার চিঠিটা মন্ত্রণালয় থেকে বেরুলো কি করে? যেখানে আমার টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে। তিনি বলেন, আমি এই সরকারের কাছ থেকে এক সুতা জমিও আশা করি না, আমি চিন্তাও করি না। এটা একটা প্রসিডিউর, একটা ফরমালিটিজ যেটা সব এমপি করেছেন, আমিও করেছি। কিন্তু আমার চিঠিটা কেন ভাইরাল হলো? রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুইদিন আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত (সাবেক অর্থমন্ত্রী) কোনো পদে না থাকা অবস্থায় শুল্কমুক্ত গাড়ি এনেছিলেন। সরকার তার সেই নোংরামি ও অসততাকে চাপা দেয়ার জন্য আমার যে বৈধ অ্যাপ্লিকেশন সেটাকে নোংরাভাবে পাবলিক করেছে। একটা সরকারি নথি যখন পাবলিক হয় তখন সেখানে সরকারের মদদ থাকে।  তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চিঠিটা কি অবৈধ? কোন আইনে অবৈধ? এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি। আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই অ্যাপ্লিকেশনও রাষ্ট্রীয়। এই সরকার যে অবৈধ এটা এখন বলছি, আগেও বলেছি—এটা সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার।’