স্কুলে মেয়েকে আনতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল বাবার

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৩

স্কুল ছুটির পর সামিয়ার অপেক্ষা বাবার জন্য। মোটরসাইকেলে বাবা আফসার উদ্দিন তাকে নিতে আসবেন স্কুলে। সময় পার হয়ে যায়, কিন্তু বাবা আর আসে না। অথচ এর আগে মেয়েকে আনতে কখনো বিলম্ব হয়নি তার। ছুটির আগেই মোটরসাইকেল নিয়ে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন মেয়ের জন্য। ফলে মেয়ের অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে তার কানে খবর এলো স্কুলে যাওয়ার পথে প্রাইভেটকার চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায়। সামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বাসা বংশালের মকিম বাজার গলিতে। ৫৮ বছরের আফসার উদ্দিন বংশালে মোটরসাইকেল পার্টস ব্যবসায়ী। তিনি প্রতিদিন নিজেই মোটরসাইকেলে মেয়েকে স্কুলে আনা-নেওয়া করতেন। তার দুই মেয়ের মধ্যে সামিয়া ছোটো।

বাবার মৃত্যুর খবরে পাগলপ্রায় সামিয়া। বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে সে। আফসারের ভাই রিয়াজ উদ্দিন জানান, গতকাল সকালে সামিয়াকে স্কুলে রেখে আসেন আফসার। দুপুরে ছুটির পর বাসা থেকে বের হন তাকে আনতে। মোটরসাইকেলে তেল কম থাকায় নীলক্ষেত মোড়ের পাশের ফিলিং স্টেশনে যান। তেল নিয়ে বের হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি প্রাইভেটকারের সামনে ছিটকে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে সামনে এগোতে থাকে গাড়িটি। পথচারিরা প্রাইভেটকারটি আটক করে। মুমূর্ষু অবস্থায় আফসারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিত্সক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রাইভেটকারের মালিক আজমল নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গাড়িটিসহ তাকে আটক করে জনতা। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়। তবে নিহত আফসারের নিকট আত্মীয়রা এ বিষয়ে মামলা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি লাশের ময়নাতদন্ত করতেও চাইছেন না তারা। গাড়ির মালিক ও নিহতের পরিবারের মধ্যে আপসের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানান তিনি।