গাজীপুরবাসীর দুঃখ জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৫৮

রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে অবস্থিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের সবচেয়ে বড়ো দুঃখ জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিনকার অসহনীয় যানজট। বর্তমানে এ যানজট এত তীব্র আকার ধারণ করেছে যে বেশিরভাগ সময়, বিশেষ করে দিনের বেলায় যানজটের কবলে পড়ে নগরবাসীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ৭২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। এতে ১০-১৫ মিনিট করে ৭২ বার ঐ লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করে দেওয়ায় এই দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর পক্ষ থেকে এ সমস্যা নিরসনে বহু আবেদন-নিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও এ সমস্যা থেকে নগরবাসীর পরিত্রাণ মিলছে না। এ সমস্যা সমাধানে বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ বর্তমানে জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।

গাজীপুর জেলা শহরে প্রবেশের এবং বের হওয়ার একটি মাত্র পথ হচ্ছে শিববাড়ী-জয়দেবপুর বাজার লেভেল ক্রসিং-রাজবাড়ী সড়ক। সড়কের মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন-সংলগ্ন জয়দেবপুর বাজার লেভেল ক্রসিং। প্রতিদিন দিনে ও রাতে এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের এবং ময়মনসিংহ হয়ে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় ৭২টি ট্রেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। দিনে-রাতে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে দিনের বেলায় এসব ট্রেন চলাচলের সময় নিয়মমাফিক জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। গেট বন্ধ রাখার সময়সীমা ১০-১৫ মিনিট থেকে কখনো কখনো ২৫-৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এমননিতেই শিববাড়ী-রাজবাড়ী সড়কটি প্রায় সব সময়ই রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভিড়ে ঠাসা থাকে। রেলগেট বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই এই লেভেল ক্রসিংয়ে দেখা দেয় তীব্র যানজট। শুধু যানজট নয়, এখন মানবজটেরও সৃষ্টি হয় সড়কটিতে। এ সময় লেভেল ক্রসিংয়ের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এই যানজট কখনো কখনো শিববাড়ী থেকে রাজবাড়ী ছাড়িয়ে গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ, এমনকি জোড় পুকুর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে।

এই লেভেল ক্রসিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় হওয়া সত্ত্বেও এখানে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ নেই। তবে দুই জন পুলিশ সদস্যকে এই ক্রসিং এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এই সড়ক দিয়ে জেলা শহরে অবস্থিত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এবং জেলা জজ আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। সড়কটিতে তীব্র যানজটের কারণে তাদের বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। ফলে সময়ের প্রচুর অপচয় ঘটে। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় রেলগেট বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলে স্থবিরতা দেখা দেয়। এ সময় পায়ে হেঁটে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়ে।

জয়দেবপুর জংশনের স্টেশনমাস্টার মো. শাহজাহান ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধিকে জানান, এই রেলওয়ে জংশন দিয়ে প্রতিদিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ ৪৪টি  আন্তঃনগর ট্রেন, ১০টি কমিউটার, ৬টি মেইল এক্সপ্রেস ও ৬টি ডেমু ট্রেন ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। এছাড়া মালবাহী ৬টি ট্রেনও এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত করে। তাছাড়া কলকাতাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন এই লেভেল ক্রসিং দিয়ে সপ্তাহে চার দিন চলাচল করে থাকে। তিনি আরো জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেন যাতায়াতের সময় লেভেল ক্রসিংয়ের গেট কমপক্ষে ৫-৭ মিনিট বন্ধ রাখা হয়। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা রেলগেট বন্ধ রাখা হয়।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শামসুর রহমান মাহমুদ জানান, নগরবাসীর দুর্ভাগ্য যে বিমানবন্দর থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত বিআরটিএর প্রকল্পে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভারটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ফ্লাইওভারটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আগামী অক্টোবর মাসে ফ্লাইওভারটির ডিজাইন ও স্থান নির্ধারণের কাজ শুরু করা হবে। আগামী বছরের জুন মাসের পর ফ্লাইওভারটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।