একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এখনও জমে ওঠেনি। ইসির নির্বাচনী আচরণ বিধি-নিষেধের কারণে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে এখনও সরব হয়নি। তবে প্রার্থীরা নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। এ আসনে মহাজোটসহ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একক প্রার্থী দিয়েছে। প্রার্থী দেওয়ার পর বিএনপি তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে গ্রুপিং ভুলে একাট্টা হলেও আওয়ামী লীগের রয়েছে একাধিক গ্রুপ। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ যদি একাট্টা না হয় তাহলে এ আসনটি এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হারাতে পারে এমনটিই মনে করছেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মহল।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলী আজগার টগর। আলী আজগার টগরের সাথে জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের মূল দলের নেতৃবৃন্দ রয়েছে। সাথে রয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও। আওয়ামী লীগের বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা রয়েছে তাদের সঙ্গে যা চোখে পড়ার মতো। গত দুই বছরে এরাই ছিলেন একপ্রকার আওয়ামী লীগের চালিকাশক্তি। এছাড়াও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মনজু ও সাদিকুর রহমান বকুলও একটি নির্বাচনী বলয় গড়ে তুলেছিলেন। নির্দেশনা না পাওয়ায় এসকল গ্রুপের নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে আছেন। অপেক্ষায় আছেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতৃবৃন্দের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে। মনোনয়ন-বঞ্চিত একজন নেতা জানালেন, তার সাথে এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত ও নৌকার পক্ষেই আমরা আছি।
অন্যদিকে ঐক্যজোটেও ছিলো গ্রুপিং। দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক শিল্পপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও জেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মকলেছুর রহমান তরফদার টিপু মাঠ তৈরি করেছেন। বাবু খানের সাথে মূল দল থাকলেও টিপু তরফদারের সাথে ছিলেন নোয়াব আলী গ্রুপ। নির্বাচনে টিপু তরফদার মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির দুইটি গ্রুপ প্রকট থাকলেও বুধবার রাতে তারা গ্রুপিং ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
