সাধারণ ডিজাইনে আভিজাত্য, টেকসই, ফিনিশিং ভালো থাকায় স্যান্ডেলগুলো মানুষের মনে খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে। ফুটপাথের স্যান্ডেলগুলো দামে কম হলেও টেকসই না হওয়া আর মানের দিক দিয়ে খারাপ হওয়ায় অনেকে এর ওপর ভরসা রাখতে পারেন না। তাদের জন্য সমাধান হিসেবে আছে স্টেপসের স্যান্ডেল। একটু উঁচু ও খোলামেলা জুতা বেছে নিতে পারেন। বছরের এ ঋতুতে জুতা খোলামেলা হওয়াই ভালো। এতে করে পায়ে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ কম হবে। সব ঋতুতেই চপ্পল পছন্দ অনেকেরই। এসব বিষয় মাথায় রেখে বাজারে এসেছে রেক্সিন ও স্পঞ্জের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের চপ্পল ও স্যান্ডেল। এগুলো পরতে যেমন আরামদায়ক, তেমনি পানিতে এর ঔজ্জ্বল্য কমে যায় না, আবার দামেও সাশ্রয়ী।
ভাদ্র মাসের গরম আর বৃষ্টি, দুটি বিষয়ই সবার জানা। দিনে হোক আর রাতে, প্রস্তুতি থাকা উচিত সবসময়ই। ঝুম বৃষ্টি যতটাই উপভোগের বিষয় হোক না কেন, বাইরে বের হলে কাদাপানির ধকল সামলাতেই হয়। ফলে ফ্যাশনেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়। বিশেষ করে জুতায়। কারণ, হুটহাট করে কখন আকাশ ভেঙে আসবে, তা বোঝা মুশকিল। তাই দুই ফিতার স্যান্ডেল বা পা খোলা স্যান্ডেল খুবই উপকারী। এসব জুতাকে ফ্লিপফ্লপ বা স্লিপার হিসেবে আলাদা করা যায়। পা-ঢাকা জুতা পরলে ভেজা পায়ে নানা ধরনের চর্মরোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্যান্ডেল পরলে পা ভিজে গেলেও তা শুকিয়ে নেওয়ার উপায় থাকে। পথে চলতে পায়ে কাদাপানি লাগলেও সহজেই পরিষ্কার করে নেওয়া যায়। আরেকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে, তা হলো পা যাতে পিছলে না যায়।
এবারের ট্রেন্ডে গাঢ় ধরনের রঙকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর কারণই হলো কাদাপানি লেগে জুতার ঔজ্জ্বল্য যাতে কম না হয়ে পড়ে। ফিতাতেও আছে নানা রং আর ডিজাইনের বাহার। কখনো জরি আবার কখনো ফোমের বা রেক্সিনের ফুল বসানো হয়েছে। কখনো আবার পুঁতি বসানো হয়েছে রঙবেরঙের। স্টেপ ফুটওয়্যারের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার জাহিদুল হাসান বলেন, ‘সবসময়ই আরামদায়ক জুতা না হলে চলে না। এ শহরে হাঁটতে হয়, বাহনে উঠতে হয়। একই সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টি ও খানাখন্দের বিড়ম্বনা। তাই আমরা তৈরি করি আরামদায়ক নকশার স্যান্ডেল। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্যই। দাম নির্ধারণ করা আছে ৫০০ থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।’
একসময় স্যান্ডেল মানেই ছিল সাদাসিধে ধরনের। সেখানে খুব একটা ফ্যাশন বা আভিজাত্যের ব্যাপার ছিল না। এ ধারণা এখন বদলে গেছে অনেকটাই। বরং স্যান্ডেলে মানুষ নিজের ফ্যাশন সত্তাকে আরো বেশি করে ফুটিয়ে তুলতে পারে। জুতা কেনার সময় কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিন। জুতা জোড়া আপনি কী কাজে ব্যবহার করবেন, সেটা প্রথমেই ভেবে দেখা জরুরি। নির্দিষ্ট কাজের জন্য ভুল জুতা কেনার ভুল প্রায় সবাই করেন। যেমন, আপনার যদি প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হয়, তাহলে হাই হিল না কেনাই উচিত। একেক জুতার ডিজাইন একেক রকম। একই সাইজের সব ডিজাইনের জুতা আপনার পায়ে নাও লাগতে পারে। নিজের মাপের চেয়ে এক বিন্দু ছোট জুতা কেনাও দিন শেষে বিপদে ফেলবে। যে জুতার মাঝে আরামে পা রাখা যায় না, এমন সব জুতাই পরিহার করুন। আরাম মানে এই নয় যে, নিজের মাপের চাইতে বড় জুতা পরতে হবে। সেটিও খুবই অস্বস্তিকর। বেছে নিতে হবে সঠিক মাপ। সঠিক মাপের জুতা হলেও তা যেন পাশে চাপা না হয়, সেটি খেয়াল রাখা জরুরি। বেশি চাপা জুতা নিয়ে আপনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারবেন না। জুতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর সোল। খুব বেশি সরু বা পাতলা সোলের জুতা পরে আরাম পাওয়া যায় না। অন্যদিকে সোলের উপাদান দেখে জুতা কেনাও খুব জরুরি।
বৈচিত্র্যময় নানা নকশার জুতা বাজারে পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে স্টেপ ফুটওয়্যার। স্যান্ডেলগুলোতে আছে নানা বৈচিত্র্য। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করছে এর নানা ডিজাইন। এসময় নিয়মিত জুতার যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাতে কাদা, ছত্রাক ইত্যাদি উঠে যায়। এছাড়া পালিশ থাকলে অনেক সময় জুতার ওপর পানি জমে থাকে না। তাই এ ঋতুতে নিয়মিত জুতা পালিশ করতেই হবে। সাধারণ ‘সু কন্ডিশনার’ দিয়ে পালিশের চেয়ে একটু আলাদা ‘সু ওয়াক্সিং’। জুতা চামড়ার তৈরি হলে বর্ষার গোড়াতেই এটা করিয়ে নেওয়া ভালো। আমাদের দেশে শরতকালেও বৃষ্টি হয়, তাই হতে হবে সচেতন। মনে রাখা দরকার, নিয়মিত যত্নে জুতা সুরক্ষিত থাকে।
