হূদরোগীদের সুস্থ থাকার পরামর্শ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১২

উম্মে সালমা তামান্না

হূদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক এক নীরব ঘাতক। যে কেউ যে কোনো সময় এর শিকার হতে পারেন। শরীর চর্চা না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ ও জীবন-যাপনে অনিয়ম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। হূদরোগ একটি জটিল রোগ হওয়ায় হূদরোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু খাবার নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

হূদরোগীদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার যেমন উজ্ব্বল রঙের শাক-সবজি, শসা, গাজর, ঢেঁড়স, টমেটো, ডাটা, সবুজ শাক, পালংশাক, লালশাক, মিষ্টি আলু, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, লাল আটার রুটি, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি পূর্ণশস্য, বাদাম, বীজ রাখুন। প্রতিদিন কিছু না কিছু টাটকা মৌসুমী ফল যেমন— আম, জাম, পেয়ারা, কমলা, কলা, আপেল, পেঁপে, টক ফল, খোসাসহ পেয়ারা, আলমকী, কামরাঙ্গা, আমড়া, লেবু ও বরই খেতে পারেন। উদ্ভিজ্জ তেল যেমন কর্ণতেল, সূর্যমুখীর তেল, জলপাইয়ের তেল বা সরিষার তেল গ্রহণ করুন।

সপ্তাহে ২/৩ দিন সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগ৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা হার্টের জন্য উপকারী। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা লোজিআইফুড গ্রহণ করুন যাতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডযুক্ত খাবার বর্জন করুন। কাঁচা লবণ খাওয়া পরিহার করুন। প্রতিদিন কোলেস্টেরল গ্রহণের পরিমাণ ৩০০ মিলিগ্রামের নিচে রাখুন।

রান্নায় একজনের জন্য ২০০০ মিলিগ্রাম বা এক চা চামচের বেশি লবণ ব্যবহার করা যাবে না। খাবার ডুবো তেলে ভাজা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভাজার চেয়ে গ্রিল করা খাবার ভালো। এতে খাবারের ভিতরকার তেল নিংড়ে বের হয়ে আসে। সুযোগ পেলেই হাঁটুন।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ছেড়ে দিন। মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন।

লেখক : পুষ্টিবিদ।