বর্ষায় নিকলীর এক একটি গ্রাম যেন এক একটি দ্বীপ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫১

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো বর্ষায় এক একটি দ্বীপে পরিণত হয়। উপজেলার হাওরে এক একটি গ্রাম মনে হয় এক একটি ভাসমান দ্বীপের মতো। ছবির মতো সুন্দর গ্রামগুলোতে দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

উপজেলার মানুষের বর্ষাকালে চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা। নৌকা ছাড়া এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশুদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয় নৌকায় চড়ে।

অন্যদিকে বর্ষায় হাওরে একটু বাতাস হলেই সৃষ্টি হয় বড়ো বড়ো ঢেউ। সেই ঢেউ উপেক্ষা করে ছোটো ছোটো ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে দুলতে দুলতে জেলেরা যায় হাওরে মাছ ধরতে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা লঞ্চে চড়ে মাইক বাজিয়ে বর-কনে শ্বশুর বাড়ি যায় বিয়ে করতে।

সদর ইউপি চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ তুলিপ বলেন, বর্ষায় আমরা পানিতে ভাসি। যখন আফাল (বাতাস) আসে বড়ো বড়ো ঢেউ এসে গ্রামে আঁছড়ে পড়ে। তখন মানুষ গ্রাম রক্ষার জন্য সারারাত পানিতে নেমে থাকে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা আফসিয়া সিরাত জানান, হাওরের গ্রামগুলো অপার সুন্দরের লীলাভূমি। বিছিন্ন গ্রামগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে জমি রক্ষা পাবে, আয় বৃদ্ধি পাবে ও সব নাগরিক সুবিধা পাবে। সবকিছু মিলিয়ে সারা বছরের কর্মসংস্থান হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা আক্তার বলেন, নিকলীর হাওরে বর্ষায় জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢেউয়ের তালে তালে জাল পেতে যেভাবে মাছ ধরে তা দেখে ভয় হয়। তবুও তারা জীবিকার তাগিদে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।