সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, ঐকমত্য ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে মত-দ্বিমত থাকতেই পারে; কিন্তু নির্বাচনী মাঠ বর্জন করা ঠিক নয়। তাছাড়া কোনো একটি দেশ যখন এগিয়ে যায়, তখন প্রথাগত রাস্তার আন্দোলন মানুষ মেনে নেয় না। ড. শামসুল হুদা বলেন, আমরা যখন কমিশনে ছিলাম, ভারত থেকে কিংবা বেসরকারি কোম্পানি থেকে আমরা ইভিএম মেশিন ক্রয় করিনি। বরং বুয়েট ও মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে আমরা ২৫০টি মেশিন তৈরি করেছিলাম; কিন্তু এই কমিশন হঠাত্ করেই একটি বেসরকারি কোম্পানি থেকে ইভিএম ক্রয় করছে। কমিশন যদি সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে চায়, তাহলে সবার ঐকমত্য ছাড়া কমিশন কেন ইভিএম ব্যবহার করতে চাচ্ছে? নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের আগে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার দরকার হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচনী অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন আইনগতভাবে বাধ্য; কিন্তু সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কমিশন চাইলে তফসিল ঘোষণা আরও পিছিয়ে দিতে পারতো। তাছাড়া ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন স্কুলের পরীক্ষা চলছে। আরেকটি বিষয় হলো— যদি ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ২৮ জানুয়ারির আগে এক মাসের বেশি সময় ধরে একসাথে দুইটি সংসদ বহাল থাকবে। এটি দেশে সাধারণত দেখা যায় না।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য হুদা কমিশন দুই বার তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দিয়েছিল; কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতা হওয়ার আগেই এই কমিশন কেন এত তাড়াহুড়ো করে তফসিল ঘোষণা করলো তা আমাদের বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির বেলা) নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ও শাসন ব্যবস্থায় যাতে ক্ষমতায় ভারসাম্য তৈরি হয় সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। গণভোট ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে যাতে কেউ সংবিধানের মৌলিক কিছু বিষয় পরিবর্তন করতে না পারে সেজন্যও উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
