মহিলা পরিষদের মতবিনিময়

সামাজিক বিকাশের অভাবে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২০

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে ঘরে-বাইরে শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বয়সের নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক বিকাশ সমভাবে না হওয়ায় নারীর প্রতি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সেভাবে হয়নি। বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত্ নারী ও কন্যার প্রতি বর্বর ও লোমহর্ষক নির্যাতনের ধরন ও মাত্রা উদ্বেগজনক। চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৫০২ জন নারী।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ’ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সভায় ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৪৬ জন নারী। উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন। এছাড়া ১৬৫ জনকে গণধর্ষণ ও ৫৩ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি নারীনেত্রী আয়শা খানম। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম। বক্তব্য রাখেন বিচারপতি নিজামুল হক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, চিকিত্সক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব ও আনোয়ারা সৈয়দ হক, আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, প্রযুক্তিবিদ মাহবুব জামান, নারী সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ। 

সভাপতির বক্তব্যে আয়শা খানম বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এটা বন্ধে এই মতবিনিময় সভার সুপারিশ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে। প্রসঙ্গত, মহিলা পরিষদ ‘ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর-১০ ডিসেম্বর) পালন করছে।