মহানগরীতে নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডে শিশুটির এক মামাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ ওই তরুণ তার পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়।
বন্দর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে নগরীর বন্দর থানার মাইলের মাথা এলাকার একটি ভবনে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু নিপু আক্তার (৯) একটি কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিপুর বাবা একজন দিনমজুর এবং মা সিইপিজেডের পোশাক কারখানার কর্মী। তারা যে ভবনের পঞ্চমতলার বসবাস করছেন, তার তৃতীয়তলায় নিপুর মায়ের এক চাচা সপরিবারে থাকেন। রবিবার বিকালে নিপুর মা-বাবা বাসায় ছিলেন না। এই সুযোগে ছেলেটি তাদের বাসায় ঢুকে নিপুকে ধর্ষণ করে। নিপু বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেবে বলে হুমকি দিলে সে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃতদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। রাতে নিপুর মা-বাবা বাসায় আসার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় আশপাশের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নিপুর মায়ের চাচাতো ভাইকে পুলিশের সন্দেহ হয়। তার বয়স আনুমানিক ১৫-১৬ বছর। তাকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এই ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীতে ধর্ষণের অভিযোগে রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক কলেজ শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষক রাজবাড়ীর শ্রীপুর লজ্জাতুননেছা কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মামলা থেকে জানা যায়, ধর্ষিতা ওই শিক্ষার্থী রাজবাড়ী সরকারি কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রথম বর্ষে লেখাপড়া করে। তার বাবা একই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক পদে শিক্ষকতা করেন। এ কারণে ওই শিক্ষার্থী মাঝে মধ্যে মাদ্রাসায় যাতায়াত করত। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একটু দূরে রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের কাছে ভাড়া বাসায় থাকেন। দুই মাস আগে শিক্ষার্থী তার বোনের বাসায় বেড়াতে গেলে লেখাপড়ার খোঁজখবরসহ অধ্যক্ষ তাকে ডেকে মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি জেনে নেন। গত ৭ আগস্ট ওই শিক্ষার্থী তার বোনের বাসায় বেড়াতে গেলে অধ্যক্ষ দিদার উল্লাহ তাকে ডেকে তার বাসায় নিয়ে ঘরের দরজা আটকে তাকে মুখ চেপে ধর্ষণ করেন। মামলার আইনজীবী হাবিবুর রহমান বাচ্চু জানান, মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার জন্য রাজবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার জানান, মামলার কাগজটি এখনো হাতে পাইনি। পেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
রাজবাড়ী লজ্জাতুন নেছা কামিল মাদ্রাসার দায়িত্বরত অধ্যক্ষ শিরীন আক্তার জানান, কোরবানি ঈদের ছুটিতে দিদার উল্লাহ গ্রামের বাড়ি যান। এখনো ফেরেননি।
