রংপুরে ফেসবুক আসক্তিতে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৩৬

রংপুর নগরীতে ফেসবুকে আসক্তির কারণে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ। সিটি করপোরেশন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চার মাসে বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২৩৩টি। এর মধ্যে জুনেই হয় ৬৬টি। এ তালিকায় দেখা যায় ৩৬ নারী ডিভোর্স দেয়। আর পুরুষের সংখ্যা ৩০।

গত ২০১৫ সালে ৫০০ জন, ২০১৬ সালে ৫৫৬, ২০১৭ সালে ৪৯৮, ২০১৮ সালে ৫৫০ দম্পতির আবেদন জমা পড়ে এবং কার্যকর হয়। বিচ্ছেদের আবেদনগুলো বেশিরভাগ নারীর পক্ষ থেকে করা হয় বলে জানায় সিটি করপোরশেন। বিচ্ছেদের কারণগুলো হলো—পারিবারিক অশান্তি, স্বামীর সন্দেহবাতিক মনোভাব ছাড়াও অন্যতম কারণ হলো ফেসবুকে আসক্তি।

বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ যৌতুক জানিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর সোহেলা মোস্তারি বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, সামাজিক অস্থিরতা, নির্যাতন, তথ্য প্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, পারিবারিক কলহ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, সন্দেহপ্রবণতাসহ নানা কারণে বিচ্ছেদ ঘটছে।

রংপুরের মেডিক্যাল এলাকার জোবেদা আক্তার (ছদ্ম নাম)। তার স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সারাদিন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় বাসায় ফিরে আগের মতো স্ত্রীকে সময় দিতে পারেন না। স্বামী অফিস ও সন্তানরা স্কুলে গেলে জোবেদার সারাদিন একা সময় কাটে না। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঙ্গে যুক্ত হন। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় আরেকজনের সঙ্গে। বন্ধুর সঙ্গে ফেসবুকের কথোপকথন চোখে পড়ে তার স্বামীর। এতে সংসারে শুরু হয় নানা ঝগড়াবিবাদ। স্বামী তাকে সন্দেহ করছেন বুঝতে পেরে ফেসবুক বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যান জোবেদা। কয়েকদিন পরে স্বামীর ঠিকানায় চলে আসে বিবাহবিচ্ছেদের চিঠি।

রংপুরের এক জন এনজিও কর্মী জানান, বিবাহের পর তাকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ না দিয়ে ঘরের সব কাজ করতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন নির্যাতন করায় বিবাহর এক বছরের মাথায় মা-বাবার উদ্যোগে তিনি স্বামীকে তালাক দেন।

রংপুরের অ্যাডভোকেট বেলাল আহমেদ জানান, সমাজে এখনো কিছু নারী আছেন যারা স্বামীর শত অত্যাচারেও লোকলজ্জার ভয়ে আপস করে একই ছাদের নিচে বসবাস করেন। বর্তমানে একে অপরের প্রতি ছাড় দেওয়ার মানসিকতা কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠায় অপর মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া অন্যতম কারণ বিবাহবিচ্ছেদের। তিনি আরো জানান, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্সে সন্তানদের ভবিষ্যত্ ভালো হয় না। বাবা-মার যে কোনো এক জনের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের মানসিক সমস্যা খুব বেশি হয়ে থাকে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন আজাদ জানান, একটি পরিবার যখন বিচ্ছেদের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে আসে তখন উভয়পক্ষের আলাদা আলাদা বক্তব্য নেওয়া হয়। ঐ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করি। অধিকাংশ পরিবার সমঝোতায় আসেন না। ফলে বিচ্ছেদ ছাড়া সিটি করপোরেশনের হাতে অন্য কোনো আইন প্রয়োগের সুযোগ নেই।