কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের প্রস্তাব

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:২৪

 ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা) শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ এর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা সংক্রান্ত এক সভায় এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, গভর্নিং বডি বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে আহ্বায়ক এবং অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে এ কমিটি করতে হবে। পাশাপাশি নীতিমালার কিছু বিষয় সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নীতিমালা সংশোধন হলে এরপরই নতুন এ প্রস্তাব কার্যকর করা হবে। নীতিমালা কার্যকর করতে মনিটরিং বাড়ানোর কথা বলেছেন সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিজের সন্তানের পড়াশোনা কোচিং নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১২ সালের কোচিং বাণিজ্য নীতিমালায় বলা হয়েছে, এক জন শিক্ষককে তার প্রতিষ্ঠানে বাইরের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০ শিক্ষার্থী পড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে শুধু অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকের ১০ জন শিক্ষার্থী পড়ানোর যে কথা বলা হয়েছে সেটা কি এক দিনে ১০ জন না মাসে ১০ জন তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কারণ, বর্তমানে এক জন শিক্ষক সপ্তাহে এক জন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ তিন দিন পড়ান। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন পড়ালে অনেক শিক্ষার্থী পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাই নীতিমালা সংশোধন করে বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রস্তাব এসেছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরেও স্কুলে কোচিং করাতে বাধ্য করে। এমনকি কোচিং না করলেও ফি দিতে হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে কাউকে কোচিং করতে বাধ্য করতে না পারে সেজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটির কার্যক্রমকে জোরদার করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক জানান, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য হয় না। শিক্ষামন্ত্রী কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।