নির্বাচনের আগে পাহাড় অশান্ত করার পাঁয়তারা!

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৩

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন পার্বত্য জেলায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। নির্বাচনে ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে জেএসএস ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপগুলো ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে। গত কিছুদিন ধরে আধিপত্যের লড়াইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত এক বছরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় কোন্দলে প্রাণ হারিয়েছে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ ও জমি দখলের ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। পাহাড়ি, বাঙালি কেউই পার্বত্য সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায় না। সেখানে আওয়ামী লীগ বা বিএনপিসহ কোনো বৈধ রাজনৈতিক দল করার ব্যাপারে আঞ্চলিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী জেএসএস বা ইউপিডিএফ করতে হয়। কেউ অমান্য করলেই তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। সম্প্রতি রাঙ্গামাটিতে এক উপজাতীয় তরুণীকে ইউপিডিএফ না করার অপরাধে তিন মাস আটকে নির্যাতন করা হয়। পরে যৌথ বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। কয়েকদিন আগে ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) সমর্থিত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রনি ত্রিপুরাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে প্রতিপক্ষ জেএসএসের সদস্যরা।

এদিকে, নির্বাচনের আগে তিন পার্বত্য জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান শুরুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উপজাতীয় ও বাঙালি নেতৃবৃন্দ। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচনের আগে পার্বত্য জেলাগুলোতে খারাপ লোকেরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। নির্বাচনের আগে জরুরি অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা। গত বুধবার রাঙ্গামাটির তবলছড়ি এলাকা থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের দুই সক্রিয় সদস্য আলোময় চাকমা ওরফে আলো ও আনন্দ কুমার চাকমা ওরফে দম্বর আলী ওরফে মনোলাল চাকমাকে আটক করে যৌথ বাহিনী। আটক ব্যক্তিরা পুলিশকে জানায়, টাকার বিনিময়ে সদস্য সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণের জন্য জঙ্গলে পাঠানোই তাদের কাজ। গত নভেম্বরে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের ৭০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল বলে তারা পুলিশকে জানায়। তবে এক জেএসএস নেতা জানান, আটক দু’জনকে ছয়মাস আগে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। একটি সরকারি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএসএস নেতা আদিবাবু, বদিবাবু, আবিস্কার বাবুর নেতৃত্বে নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর জেএসএসের সশস্ত্র উইং পরিচালনা করে রাঙ্গামাটি শহরের মনপুরা এলাকার বাসিন্দা জ্ঞান শংকর চাকমা ও পানখাইয়া নামক দুই ব্যক্তি। এরা উভয়েই রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় জেএসএস এর চাঁদা কালেক্টরের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানা গেছে।

পাহাড়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের সমালোচনা করে জেএসএস প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা গত সপ্তাহে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি দাবি করেন, চলমান বাস্তবতায় পাহাড়ে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয়। তফসিল ঘোষণার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নামে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযানে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত নেতা-কর্মী ও ব্যক্তিবর্গের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচন সামনে রেখে সরকার ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষায় সিভিল প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।