বিদ্যালয়ের মাঠ নাকি ডোবা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৩৬

বিদ্যালয় মাঠজুড়ে পানি। জমে থাকা এই পানিতে ভাসছে পরিত্যাক্ত বোতল, পলিথিন আরো কত কি। পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধেই শেষ নয়। এই পানি রীতিমতো ব্যঙ আর মশার বংশ বিস্তারের নিরাপদ আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। ফলে বিষিয়ে উঠছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ। এ তো গেল পরিবেশের কথা।

মাঠটি জলমগ্ন থাকায় কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা করতে পারছে না। দোলনাসহ খেলাধুলার সামগ্রীগুলোও পানির মধ্যে। বন্ধ রয়েছে অ্যাসেম্বিলিও। জলমগ্ন মাঠের উত্তরে একটি ডোবা রয়েছে। ফলে ওই পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় শিশুদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না বলে জানালেন এক শিক্ষক। আবার অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না। নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে এমন পরিস্থিতি।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা, তৃতীয় শ্রেণির সোমো, দ্বিতীয় শ্রেণির হাবিবা ও প্রথাম শ্রেণির নুসরাত জাহান জানায়, বিদ্যালয় মাঠটি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষকরা বের হতে দেয় না। খেলাধুলাও করা হয় না। মাঠে গেলেই ভয় লাগে।

প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী জানালেন, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৬২। ফলাফলেও ভালো বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের প্রায় ২৮ শতাংশ খেলার মাঠের সম্পূর্ণই জলাবদ্ধ। কারণ মাঠের উত্তর দিকে ডোবা আর দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সরুপথ। এখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্ট থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির জমে থাকা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। একারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রায় বছরজুড়েই। এতে করে পাঠদানও ব্যহত হয়। এই সংকট নিরসনে তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দিয়েছেন। তাতে কোন লাভ হয়নি।

বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাঠজুড়ে পানি জমে থাকায় শিশু সন্তানরা বিদ্যালয় থেকে না ফেরা পর্যন্ত চিন্তিত থাকেন। অনেক অভিভাবক শিশুদের বিদ্যালয়ে পোঁছে দিয়ে আবার ছুটির সময় নিয়ে আসেন। 

বিদ্যালয়ের সভাপতি ব্যবসায়ী মো. জুমির উদ্দিন মন্ডল জানান, জলাবদ্ধাতার ব্যপারে তারা কোন পদক্ষেপ নেননি। এব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়নি। গুরুদাসপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যানি।

ইত্তেফাক/আরকেজি