ভিনগ্রহীরা ঘুরে গেছে পৃথিবী!

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৫

ভিনগ্রহী বলতে সাধারণত পৃথিবী-ভিন্ন মহাকাশের অন্য কোনো স্থানের প্রাণকে বোঝানো হয়। ভিনগ্রহীদের নিয়ে মানুষের মধ্যে বরাবরই এক ধরনের কৌতূহল রয়েছে। সাধারণত কাল্প-কাহিনী নির্ভর সিনেমায় ভিনগ্রহীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। তবে এবার নাসার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ভিনগ্রহীরা নাকি ইতোমধ্যে পৃথিবীতে এসে ঘুরে গেছে! কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাইনি।

নাসার এইমস রিসার্চ সেন্টারের কম্পিউটার বিজ্ঞানী সিলভানো পি কলম্বানো তার এক গবেষণাপত্রে বলেছেন, ভিনগ্রহীদের যে ছবি আমরা এতোদিন ভেবেছি, এঁকেছি সেই সবের সঙ্গে ভিনগ্রহীদের চেহারা মেলে না। অনেকেই মনে করেন ভিনগ্রহীদের শরীর কার্বন যৌগ দিয়ে তৈরি কিন্তু আদৌ বিষয়টি সেরকম নয়।  ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে আমাদের ধ্যান-ধারণায় অনেক ভুল রয়েছে। আমরা মহাকাশের এই মুলুকে, ওই মুলুকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। যাচ্ছি। অথচ ভিনগ্রহীরাও যে এই ব্রহ্মাণ্ডে ঘুরে বেড়াতে পারে বা তাদের সেই        ভ্রমণ যে আমাদেরও আগে শুরু হয়ে থাকতে পারে এটা আমরা মাথায় রাখছি না।

ভিনগ্রহীরা পৃথিবী ঘুরে গেলেও আমাদের নজরে না পড়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ওরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান (সুপার ইন্টেলিজেন্ট) আর চেহারায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হতে পারে। তাই হয়তো আমাদের চোখে পড়েনি। তাছাড়া ভিনগ্রহীদের দেখার মতো কোনও প্রযুক্তিই হয়তো এখনো আমাদের হাতে নেই।

ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে তথ্য জানতে মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলেন, মানবসভ্যতার প্রযুক্তির বয়স তো সবে ১০ হাজার বছর। আর যত সব বিজ্ঞানের আবিষ্কার, সেই সবই তো ৫০০ বছরের বেশি পুরনো নয়। তার চেয়ে অনেক অনেক উন্নত প্রযুক্তি থাকতে পারে ভিনগ্রহীদের হাতে, যা দিয়ে তারা আমাদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণাও বদলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন নাসার এ বিজ্ঞানী।

মহাবিশ্বে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি বা তারকামণ্ডল। আমাদের গ্যালাক্সিতেই রয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র, যার মধ্যে আমাদের সূর্যও একটি। এ বিশাল মহাবিশ্বে রয়েছে সূর্যের মতো অসংখ্য নক্ষত্র। এই অসংখ্য নক্ষত্রের কোনো গ্রহে হয়তো আমাদের মতোই প্রাণ থাকাটা তাই খুবই স্বাভাবিক। এ কারণে স্টিফেন হকিং এবং কার্ল সেগানও তাই পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনার ওপর বেশি কথা বলেছেন।-আনন্দবাজার