‘নিখোঁজ’ তিনজনের সন্ধান মেলেনি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৮

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া তিন ব্যক্তির এখনও হদিস মেলেনি। তাদের পরিবার উত্কণ্ঠার মধ্যে আছে। তাদেরকে যারাই নিয়ে যাক বা নিখোঁজ হয়ে যাক—পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছেন। ‘নিখোঁজ’ হওয়া এই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজনের পরিবার গতকাল সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। ‘নিখোঁজ’ র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (চাকরিচ্যুত) হাসিনুর রহমানের সন্ধানের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী শামীমা আখতার।

সম্মেলনে শামীমা আখতার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘তার স্বামী ২৮ বছর সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ডিওএইচএস এলাকার ৪ নম্বর এভিনিউয়ের ১০ নম্বর রোডের ৬৫৯ নম্বর বাড়িতে হাসিনুর রহমান সপরিবারে থাকতেন। ৮ আগস্ট রাতে দু’টি মাইক্রোবাসে ১৪-১৫ ব্যক্তি হাসিনুরকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু এখনো তার সন্ধান মেলেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, হাসিনুর রহমান র্যাব-৫ ও র্যাব-৭ এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিজিবিতেও বেশ কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। র্যাবের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে তার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। ২০১১ সালের প্রথমদিকে তাকে র্যাব-৭ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মাতৃবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তিনি সেনাবাহিনীতে আরডকে যোগদান করেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তার ৫ বছরের জেল হয়। ২০১৪ সালের শেষের দিকে তিনি মুক্তি পান।

গতকাল পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা জিডি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাইনি। এদিকে গত বছরের ২৫ আগস্ট ধানমন্ডি থেকে নিখোঁজ হন কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ইশরাক আহমেদ (২০)। তিনি ছুটিতে ঢাকায় এসেছিলেন। এ নিখোঁজ ছাত্রের বাবা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী জামালউদ্দিন আহমেদ ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এখনো তার সন্ধান মিলেনি। ইশরাকের বাবার আকুতি,‘সে যেখানেই থাকুক, তাকে উদ্ধার করা হোক।’

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিকালে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের ৮৯ নম্বর বাসা থেকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হন। ওইদিন বেলজিয়াম থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল তার মেয়ে সামিহা জামানের। সামিহা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বাবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পর তিনি একটি ট্যাক্সিতে বাসায় ফেরেন। তখন থেকে মারুফ জামানের খোঁজ নেই। পরদিন সামিহা ধানমন্ডি থানায় জিডি করেন।

এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ইশরাক ও মারুফ জামান নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি জিডি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনও কোনো সন্ধান পাইনি।’