উচ্চ সুদহার ব্যবসায়ে বড়ো বাধা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৭

ঋণগ্রহীতাদের উচ্চ সুদহার ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বড়ো বাধা, যা ঋণ পরিশোধে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপরন্তু, উচ্চ সুদের কারণে পণ্য উত্পাদনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিমুখী শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে আসা দরকার। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কমানো, ঋণের গুণগত মানোন্নয়ন এবং যৌক্তিক মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সুদের হার কমানো সম্ভব হবে। এতে অর্থনৈতিক সূচকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। সুদের হার না কমার অন্যতম কারণ খেলাপি ঋণের উচ্চ সুদহার। বিশ্বের অন্যান্য দেশে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানায় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকার এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, যা খেলাপি ঋণকে নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার কমাতে সহায়তা করবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম মিলনায়তনে ‘ইন্টারেস্ট রেট অ্যান্ড এক্সপানশন অব ব্যাংক ক্রেডিট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা,  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। তিনি তার বক্তব্যে সুদহারের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন।

বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক মো. নেহাল আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বত্র গত কয়েক বছর ধরে সুদের হার কত তা আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সুদের হার কম থাকলে বিনিয়োগে গতি বাড়ে। ভিশন-২০৪১, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ডেল্টা প্ল্যানের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সুদের হার কমিয়ে আনতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উচ্চ লক্ষ্য অর্জনে সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অসম প্রতিযোগিতা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনছে। এটি দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদকেই বিষয়টি দেখভাল করতে হবে। অনেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের কারণে ব্যাংক সুদ কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন। গবেষণায় প্রমাণিত, সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে ব্যাংকঋণের সুদে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না। সামাজিক নিরাপত্তায় সঞ্চয়পত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, ব্যাংকের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাটা সুষ্ঠু হলে তারল্য সংকটের মধ্যে পড়ে না ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, ব্যাংকের উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে খেলাপি ঋণ কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পুরো ব্যাংকিং খাতকে খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নেপাল ও চীনে ঋণখেলাপিরা ট্রেন ও বিমানের টিকিট কিনতে পারেন না। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশেও নেওয়া যেতে পারে।