আমাদের দেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করা হইয়াছে। সবাই লিপ্ত হইয়াছে সেই অনিয়মে। গ্যাসের সংযোগ লইয়া তেমনি অনিয়মের খবর পাওয়া যাইতেছে পত্রিকান্তরে। গত ২৭ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক সংবাদ মারফত জানা যায়, সাভারে অবৈধ গ্যাসের সংযোগের ধুম পড়িয়াছে। সেইখানে সমানতালে চলিতেছে এই অবৈধ কাণ্ড। এইসব অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই অবস্থা আবার পূর্বের পর্যায়ে ফিরিয়া আসে। এমনকি দিনে বিচ্ছিন্ন করিলে রাতে পুনরায় সংযোগ নেওয়া হয়। একটি চক্রাকার পদ্ধতিতে চলে এই অপকর্ম। কয়েকটি ধাপে গ্রাহকদের নিকট হইতে হাতাইয়া লওয়া হয় অর্থ। প্রথমে তাহারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ প্রদান করেন। কিছুদিন পর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালাইয়া সেইসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিয়া দেয়। কয়েক দিনের মধ্যে এলাকার সেই সকল প্রভাবশালী ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে এবং তাহাদের সহায়তায় বিচ্ছিন্ন করা লাইনগুলিতে পুনরায় অবৈধ সংযোগ দিয়া বাড়ি বাড়ি গ্যাস সরবরাহ করেন। এই সুযোগে নিজনিজ এলাকার সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিবার ভয় দেখাইয়া প্রতি মাসে গ্রাহকদের নিকট হইতে টাকা আদায় করে। এইসব অবৈধ সংযোগ দিতে ঠিকাদার ও স্থানীয় দালালরা প্রতিটি বাড়ির মালিকের নিকট হইতে ৬০-৭০ হাজার টাকা করিয়া নিয়াছে বলিয়া অভিযোগ আছে। সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (তিতাস) সূত্রে জানা গিয়াছে, সাভার ও আশুলিয়ার মোট বৈধ গ্যাস-সংযোগ রহিয়াছে ৩৫ হাজার। প্রত্যেকটি সংযোগে একটি করিয়া চুলা থাকার কথা থাকিলেও বাস্তবে ইহার সংখ্যা অনেক বেশি। যাহার অধিকাংশই অবৈধ বলিয়া জানান তিতাস কৃর্তপক্ষ।
অন্যদিকে অবৈধ গ্যাস-সংযোগের ফলে সাভার শিল্পাঞ্চল ও অত্র এলাকার বৈধ গ্যাস-সংযোগকারীরা গ্যাস-সংকটে পড়িয়াছেন। সেইখানে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ খুব কম থাকিতেছে। ভোর রাত্রে সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস আসিলেও সকালেই চাপ পুনরায় কমিয়া যায়। ইহাতে শিল্প উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি বৈধ ব্যবহারকারীরা দুর্ভোগে পড়িতেছেন। গত কয়েকদিনে সাভারের আশুলিয়ার ঘোষবাগ, কাঠগড়া, আনারকলি এলাকার একই সংযোগস্থলে অভিযান পরিচালিত হইয়াছে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার। তবে বারবার অভিযান চালাইয়া বিচ্ছিন্ন করা হইলেও তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (তিতাস) কোম্পানির সহিত পাল্লা দিয়া চলিতেছে বিচ্ছিন্ন সংযোগে নতুন করিয়া অবৈধ সংযোগ। আর এইভাবেই মূল সংযোগগুলিতে গ্যাস-সংকট তৈরি হওয়া ছাড়াও সরকার রাজস্ব হারাইতেছে কোটি কোটি টাকা। পাশাপাশি অবৈধভাবে নেওয়া গ্যাস-সংযোগগুলোর পাইপ অনেক নিম্নমানের হওয়ায় যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকিয়াই যাইতেছে।
মূল্যবান সরকারি রাজস্ব বাঁচাইতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। সকল অবৈধ গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অসাধু ঠিকাদার, কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর হইতে হইবে, যাহাতে বারবার বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ পুণরায় স্থাপন করা না হয়।
