সন্তানকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে গড়ে তুলুন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৪

বর্তমান শহুরে অভিভাবকদের চিন্তা-চেতনা সন্তানকে কিভাবে সরকারি স্কুল-কলেজে ভর্তি করা যাবে, যে করেই হোক এ-প্লাস পাওয়াতে হবে। এ-কালের সন্তানরা ঘুম থেকে উঠে স্কুলের পড়া, স্কুলে যাওয়া এবং ফিরে এসে দু-তিন জন টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়া, নাহলে কোচিং সেন্টারে, তারপর ঘরে এসে পড়া তৈরি করা। ঘরের চার দেয়ালের ভেতর বন্দি, শুধু পড়া আর পড়া। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে খেলাধুলা দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। তাদের কাছে অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে তারা অনেকেই অলস, দুর্বল, মেধাহীন হয়ে বেড়ে উঠছে এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

সন্তানদের শরীর গঠনের জন্য যেমন খেলাধুলা, সাইকেল চালানো, পুকুরে সাঁতার কাটা প্রয়োজন—তেমনি মেধা বিকাশের জন্য প্রয়োজন সংস্কৃতিচর্চা; গাছপালা, পশুপাখি, পুকুর-দীঘি, নদী-সাগর ও পাহাড়ের মতো নির্মল পরিবেশ। তারা কখনো দেখেনি ধানের শীষের ওপর কিভাবে শিশির বিন্দু জমে, ধানখেতে বাতাসের ঢেউ খেলার অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করেনি, শোনেনি পাখির কিচিরমিচির শব্দ, শরীরে অনুভূত হয়নি নদীপাড়ের বাতাস, শোনেনি সমুদ্রের গর্জন, দেখেনি মাছ ধরার সুকৌশল, দেখেনি পূর্ণিমা রাতের অপরূপ সৌন্দর্য, অমাবশ্যা রাতে জোনাকি পোকা, শীতের সকালে দূর্বাঘাসে নগ্ন পায়ে হাঁটা, খেজুরের রস দিয়ে ভাপা পিঠা খাওয়া। আমরা ঈদে কিংবা পুজোর ছুটিতে গ্রামে যাই। আমার কষ্ট লাগে যখন শুনি গ্রামে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে, নদীতে, ঝরনায় বা সাগরে সাঁতার না জানার কারণে কারো সন্তান মারা গিয়েছে। তাই সন্তানদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যান। মাঝেমধ্যেই গ্রাম থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন। গ্রাম যদি বেশি দূরে হয় তাহলে অন্তত শহর থেকে একটু দূরে নির্মল পরিবেশে প্রকৃতির কাছাকাছি যান সন্তানকে নিয়ে।  সন্তানকে সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, শরীর গঠনের মতো ব্যায়াম শেখান; তাকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলুন।

শ্রীধর দত্ত

চট্টগ্রাম