আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতন হোন, কারণ ডেঙ্গু প্রতিরোধযোগ্য। ইতিমধ্যে আমরা অনেকেই আমাদের স্বজন হারিয়েছি, তাঁরা হয়তো উপলব্ধি করেছেন এর ভয়াবহতাটা। জনস্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে মাছিবাহিত রোগ ‘কালাজ্বর’ নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে দেখেছে, কালাজ্বরের বাহক বেলেমাছির একটা কামড় একজন ব্যক্তি ও পরিবারকে বিপন্ন করে দিতে পারে। সেই বাস্তব কর্ম অভিজ্ঞতা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে কিছু বলতে চাই। ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত জ্বর, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু ছাড়াও চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, কালাজ্বর, ইয়েলো ফিভার বা হলুদ জ্বর প্রভৃতি বাহক বাহিত রোগ। এই নির্দিষ্ট রোগগুলোর ক্ষেত্রে নিদিষ্ট নির্দিষ্ট বাহক থাকে। পাশাপাশি থাকে পোষক বা হোস্ট। তবে এই রোগগুলো সবগুলোই মশা-মাছির দ্বারা সংক্রমিত হয়। তাই ডেঙ্গু রোগের হাত থেকে যদি নিজেকে রক্ষা করতে চাই, তাহলে প্রথম শর্তই হলো, নিজেকে এডিস মশার কামড় থেকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু কাজটি এত সহজ নয়, কারণ আমি হয়তো সচেতন হয়ে ডেঙ্গু মশার আবাসস্থল ধ্বংস করেছি, কিন্তু অন্যের অসচেতনতার বলিও কিন্তু আমরা যে কেউ হতে পারি! আর সে কারণেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক উদ্যোগে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।
অনেকক্ষেত্রেই আমরা নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ভুলে গিয়ে, শুধু সরকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দোষারোপ করার মধ্য দিয়ে নিজের নাগরিক দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি! যা কখনোই কাম্য নয়। এ বছর ডেঙ্গু রোগের ব্যাপকতা ও ভিন্নতা অনুযায়ী, এইসব রোগ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। তাই কীটতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ ও উদ্ভাবনী গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে এই রোগের বাহক এডিস মশার ভিন্নতা বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জানা ও কার্যকর ওষুধ নির্বাচন করা সম্ভব বলে মনে করি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি)-এর পরজীবী বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও গবেষণা পরিচালনায় সরকারকে কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং ভূমিকা রাখতে পারবেন বিশ্বাস করি।
সবশেষে বলতে চাই, সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হোন, প্রয়োজনে জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে কল করে পরামর্শ নিন। আসুন, নিজের নাগরিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে গড়ে তুলি ডেঙ্গুমুক্ত দেশ।
সুমিত বণিক
বান্দরবান
