উদারতা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৭

রাস্তার পাশে বটগাছ। কর্মক্লান্ত কৃষক দুপুরের রোদে একটু শান্তির খোঁজে গাছটির নিচে এসে বসে। ছোট ছেলেমেয়েরা গাছটির চারপাশে লুকোচুরি খেলে। তাপ থেকে একটু মুক্তির আশায় রাস্তার পথিক গাছটির নিচে এসে দাঁড়ায়। সন্ধ্যায় পাখিরা কিচিরমিচির করতে করতে গাছটিতে ফিরে আসে। রাত যখন শেষ হয় গাছটি অক্সিজেন দেওয়া শুরু করে। একদিন দেখলাম গ্রামের গরিব মহিলাটি গাছের শুকনা পাতাগুলো নিয়ে যাচ্ছে। কারণ পাতাগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে সে। সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। গাছের একটা ডাল ভেঙে মাথার ওপরে বাড়িতে চলে গেলাম। গাছটির কাছে যখন যাই তখন মনে মনে ভাবি, এই গাছের জীবনীশক্তি যদি পেতাম তাহলে মানুষের অন্তরে দ্রুত পৌঁছে যেতাম। প্রতিদানের প্রত্যাশা না রেখে ঐ গাছটির মতো মানুষের সেবা করতাম। আমরা অনেকে তো আছি সবকিছুতে প্রতিদানের আশা করি। কোনো মানুষের বিপদে ২০০ টাকা দিলাম। কিন্তু এই টাকার প্রশংসা এমনভাবে চারদিকে প্রচার করি যেন অনেক অনেক টাকা দিয়ে ফেলেছি। সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা কোনো কিছু প্রাপ্তির আশা না রেখে মানুষের জন্য আজো করে যাচ্ছে। তারা ধর্ম বোঝে না, বর্ণ বোঝে না, তারা বোঝে মানুষ। মানুষের উপকারের মধ্যে তারা তাদের চিন্তা-চেতনাকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছে। অনেক স্কুল-কলেজ রয়েছে, যেগুলোর প্রতিষ্ঠাতার নামও আমরা জানি না। এই সম্মানিত লোকগুলো জানত মানুষের মঙ্গল সাধনের মধ্যে যে প্রাপ্তি সেটাই আনন্দের। যারা মানুষের জন্য কাজ করেছেন অথচ নিজের আত্মপ্রচারে লিপ্ত ছিলেন না, সেই মানুষগুলোকে সম্মান জানানো আমাদের  দরকার। বটগাছটি আমাকে শিক্ষা দেয় শুধু নিজে বেঁচে থাকার জন্য জীবন নয়। সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি সমাজ আর দেশের জন্য কিছু করব। প্রতিদানের প্রত্যক্ষ আশা না করেই আমরা কাজ করব। সবাই সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাব শান্তির সুশীতল গাছের ছায়ায়। যেখানে থাকবে উদারতা। পারস্পরিক স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার নতুন মেলবন্ধন।

রূপম চক্রবর্ত্তী

পূর্ব নলুয়া, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম