স্ট্যাম্পের পেছনে গ্লাভস হাতে দেশের সেরা উইকেটকিপার ধরা হয় নুরুল হাসান সোহানকে। গ্লাভস হাতে তার দক্ষতা, সাহস, প্রচেষ্টা যে কোনো দলের জন্যই বড়ো সম্পদ। মুশফিকুর রহিম, লিটন দাসদের মতো উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানদের যুগেও জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মাঝে ছিলেন সোহান।
কিন্তু বছর গড়িয়ে গেল নির্বাচকদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেছেন এই তরুণ। এই তো গত বছর অ্যান্টিগায় ক্যারিবিয়ান পেস আক্রমণের সামনে নাকের-চোখের জল এক হলো সাকিব-তামিমদের। সেখানে প্রতিরোধের, সাহসের ঝান্ডা ছিল সোহানের ব্যাটে।
নিতান্ত দুর্ভাগা না হলে কী এমন হয়? ঠিক পরের সিরিজেই যে টেস্ট দলে নেই সোহান! গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে ৫২৪ রান করেছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তাকে পাঠানো হয়েছিল ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে মিনি রঞ্জি ট্রফি খেলতে। সেখানেও ভালো করেছেন। দুটি হাফ সেঞ্চুরিও ছিল।
কিন্তু কী দুর্ভাগ্য, এবার হোম সিরিজের জন্য ডাক পাওয়া ৩৫ ক্রিকেটারের প্রাথমিক দলেও নাম নেই সোহানের! এমন দৃশ্য দেখার পর হতাশায় ভেঙে পড়াটা অমূলক নয়। সোহান অবশ্য সেই পথে হাঁটতে চান না। হাল ছাড়তে চান না। হতোদ্যম না হয়ে লড়াইয়ে নিজের নামটা সবসময় আগে রাখতে চান।
বাংলাদেশের হয়ে ৩ টেস্ট, ২ ওয়ানডে ও ৯ টি-২০ খেলা সোহান গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বলছিলেন, প্রাথমিক দলে না থাকায় অবাক হয়েছেন। ২৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার বলেন, ‘অবশ্যই মানুষ হিসেবে নিজেকে এমন অবস্থান থেকে প্রেরণা যোগানো অনেক কঠিন। কারণ আপনি যখন জাতীয় দলের সঙ্গে কিছুদিন ছিলেন পরে ৩৫ জন-এ ও থাকবেন না। অবশ্যই নিজের কাছে খারাপ লাগে।’
এসব ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চান সোহান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে প্রস্তুতি ম্যাচের বিসিবি একাদশে জায়গা হতে পারে তার। গতকাল বলছিলেন, ‘এটা ধরে রাখলে অবশ্য নিজের ক্যারিয়ারের জন্য খারাপ। তাই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। বড়ো মানের প্লেয়ার হতে গেলে নিজেকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকা জরুরি। সেদিক থেকে সবচিন্তা করে এই জিনিসগুলো মাথায় না আনার চেষ্টা করি।’
প্রস্তুতি ম্যাচ সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিতে তৈরি সোহান। গতকাল তরুণ এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘একটা ম্যাচ দিয়ে তো আর অনেক কিছু হয় না। লক্ষ্য থাকবে প্রতিটা ম্যাচই ভালো খেলার। গত কিছুদিন ভালো খেলে আসতেছি। সামনে যে সুযোগগুলো আসবে জাতীয় দল না হলেও সামনে ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন মৌসুম শুরু হবে, লক্ষ্য থাকবে ওখানে ভালো করা।’ বারবার উপেক্ষিত হলেও সোহান নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। গতকাল বলেছন, ‘যেখানে খেলি না কেন, সবসময় চাই পারফর্ম করতে। টেস্ট সিরিজের পর হয়তো কম্বিনেশনের কারণে দলে আসি নাই। গত প্রিমিয়ার লিগেও আল্লাহর রহমতে সাড়ে ৫’শ র মতো রান (আসলে ৫২৪) করেছিলাম। ১০ জনের ভেতর ছিলাম। এমনকি ভারতেও ভালো ছন্দে ছিলাম। কয়েকটা ইনিংস ভালো খেলছি।’
নিজের উন্নতির জন্য ট্রেনার, ব্যাটিং, উইকেটকিপিংয়ের আলাদা কোচ ঠিক করেছেন সোহান। জাতীয় দলে আসা-যাওয়া নিয়ে বিশেষ ভাবনা নেই সোহানের। কারণ তিনিও জানেন, ভালো খেললেও জাতীয় দলে থাকার নিশ্চয়তা নেই তার।
গতকাল বলেছেন, ‘আসলে শেষ তিন চার বছর ধরে জাতীয় দলের সাথে এভাবে আছি। তো সবসময় ঐ চিন্তাটাই করি যে কোনো সময় বাদ যেতে পারি। এটা নিয়ে আসলে চিন্তা করেও কোনো লাভ নেই। আসলে এটা আমার হাতে নেই। ভালো খেললেই জাতীয় দলে ফিরব এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই।’
