শেখ রাসেল এভিয়ারী অ্যান্ড ইকোপার্কে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ধীরগতি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৫

উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশাল বরাদ্দ থাকলেও রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল এভিয়ারী অ্যান্ড ইকোপার্কের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে ধীরগতিতে। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করছে এলাকাবাসী।

২০১০ সালে রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা বন বিটের দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর বনাঞ্চলে ২১০ হেক্টর এলাকাজুড়ে দেশের একমাত্র পক্ষীশালা শেখ রাসেল এভিয়ারী অ্যান্ড ইকো পার্কের অবস্থান। প্রতিদিন মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে পার্ক। আরো বেশি আকর্ষণ তৈরি করতে সম্প্রতি ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল এভিয়ারী অ্যান্ড ইকোপার্কের উন্নয়নে ১২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পার্কে নতুন ২টি কৃত্রিম হ্রদ নির্মাণ, রোপওয়ের এক কিলোমিটার সম্প্রসারণে ক্যাবল কারে ভ্রমণের আওতা বৃদ্ধি, ৫টি পাখির খাঁচা, চতুর্সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, গাড়ীর পার্কিং নির্মাণ, আভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়ন ও একটি হ্রদের সংস্কারসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আগামী ২০২০ সনের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রাথমিক পর্যায়ে পার্কের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আগত পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং ও পুরাতন একটি হ্রদে ধারক দেওয়াল নির্মাণে সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পার্কিং এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। হ্রদে ধারক দেওয়াল নির্মাণ কাজ এখনো শুরু করা হয়নি। চলমান কাজের প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর কোনো সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়নি।

পার্কে নিয়োজিত স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ প্রকল্প কাজের দেখভাল করেন না। এভিয়ারী অ্যান্ড ইকোপার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের প্রতি কার্যক্রম তদারকির কোনো নির্দেশনা নেই। 

পার্ক পরিদর্শনে আসা বাবুল বড়ুয়া, আব্দুল কুদ্দুছ ও মোহাম্মদ আলমগীরসহ অনেকে বলেন, পার্কের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা পর্যটন ব্যবস্থায় নতুন করে আকর্ষণ তৈরি হবে। প্রকল্পগুলোর মানসম্মত বাস্তবায়নে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার, কৌশলগত প্রযুক্তির যথাযথ  ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা জরুরি।

চট্টগ্রাম গণপূর্ত প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে শেখ রাসেল এভিয়ারী পার্কের টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। নির্দেশনা মতে কাজের তদারকি করছি। প্রকল্প কাজের সাইনবোর্ড বিষয়ে জানা নেই।

সংরক্ষিত বন কেটে চলছে মাটি ভরাট

ইকোপার্কের গাড়ী পার্কিং স্পট নির্মাণ প্রকল্পে ভরাট কাজে রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের কোদালা বন বিটের সংরক্ষিত পাহাড় ও বনভূমির মাটি কেটে কোদালা বন রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাহাড় ও সমতলভূমি উজার করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোদালা বন বিটের সংরক্ষিত গভীর বনাঞ্চলের ভোলারঢহর এলাকায় অ্যাসকেভেটর যন্ত্রে মাটি কেটে বনাঞ্চল উজার করা হচ্ছে।  দীর্ঘ প্রায় তিন-চার কিলোমিটার বন ও পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করে ট্রাকযোগে ঐ মাটি পার্কিং স্পটে নেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি আবুল কাশেম জানায়, নিয়োজিত স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট চুক্তিভিত্তিক বনের মাটি কাটছে।

কোদালা বন বিট কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান, বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে মৌজা খতিয়ানের মালিকানার জমি থেকে মাটি কেটে পার্কিংয়ে ভরাট কাজ হচ্ছে। মানবিক কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের রাস্তা ও পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।