নওয়াপাড়ায় ভৈরব ব্রিজ তৈরি শুরু হয় ২০১৫ সালে। তবে ব্রিজটি নানা কারণে এখনো উদ্বোধন হয়নি। তবে সম্প্রতি মানুষের চলাচলের স্বার্থে খুলে দেওয়া হয়েছে। ব্রিজটি খুলে দেওয়ার কিছু দিন পরই ওপরের অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে যাতায়াতকারীরা ব্রিজ পারাপারে আতঙ্কিত। কর্তৃপক্ষ বলছে, কাজ চলমান রয়েছে। যদি কোনো সমস্যা হয় তবে ঠিক করে দেওয়া হবে।
১৫টি পিলারের কলামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ৭০২.৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮.১ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের মাঝখানে মেঝেতে বিভিন্ন ব্লক দেওয়া রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্থানে ফাটলের মতো দাগ। সেই দাগগুলো ঢেকে দিতে দেওয়া হয়েছে পুডিং। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে সিমেন্ট, বালি ও আঠা।
এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াতকারী ভ্যানচালক সোহাগ হোসেন বলেন, আমাদের যাতায়াতের জন্য ব্রিজটি করা হয়েছে। তবে তা চালু করার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমি যখন ভ্যান চালিয়ে রাতে বাড়ি যাই তখন দেখি সেই ফাটল ঠিক করছে।
স্থানীয় শফিকুর রহমান বলেন, আসলে ব্রিজটি চালু হলে আমরা খুশি হতাম। কিন্তু এখন যা দেখছি, তাতে আমরা আতঙ্কিত।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স জয়েন্ট ভেঞ্চারের প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, এটা ব্রিজের ওয়ারিং কোর্চ। এই ওয়ারিং কোর্চের হেয়ার ক্রাক আসছিল। এটা অ্যাপেকসি আঠার মাধ্যমে রিপিয়ার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা মূল ব্রিজের কোনো পার্ট না। ছাদে যে ধরনের জলছাদ করা হয়, সেরকম করে ব্রিজের ওপরে জলছাদের আদলে দুই ইঞ্চির মতো বিভিন্ন জায়গায় হেয়ার ক্রাক দেখা দিয়েছিল। সেটাই রিপিয়ার করেছি। আরিফুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল যদি সমস্যা না হয় তবে কেন এটা করা হলো। জবাবে তিনি বলেন, এই ফাটা স্থান দিয়ে পানি গিয়ে মূল ব্রিজের অংশের ক্ষতি হতে পারে বলে অ্যাপেকসি আঠার মাধ্যমে মেরামত করা হয়েছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা মো. ইফতেখার আলী বলেন, মূল ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে। রং ও ফিনিশিং-এর কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, এটা আসলে ফাটল না। ওয়ারিং কোর্চের হেয়ার ক্রাক। এটা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করি বড়ো ধরনের কোনো সমস্যা না। কোনো ত্রুটি থাকলে ঠিক করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে কাজ চলমান রয়েছে। ফলে ঠিকাদারের টাকা দেওয়া হয়নি।
