দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত নকলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের সুতি নদী বর্তমানে অবৈধ দখলদাররা গ্রাস করে ব্যক্তিগত পুকুর বানিয়ে মাছ চাষের প্রকল্পে পরিণত করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা নদী হিসেবে নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পলাশকান্দি, পাঁচকাহুনিয়া ও পাঠাকাটা গ্রাম হয়ে মূল বহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিশেছে সুতী নদী।
সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত্ ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে সুতি নদীর অবিচ্ছিন্ন স্রোতের প্রবাহ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে অবৈধ দখল করে নদীতে বাঁধ দিয়ে শতাধিক পুকুর তৈরি করায় একদিকে যেমন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অন্যদিকে সুতি নদী এখন আবদ্ধ জলাভূমির মাছ চাষ প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশীয় মাছের স্থলে রুই, কাতলা, তেলাপিয় ও পাঙাশ জাতীয় মাছ চাষ করা হচ্ছে সুতি নদীর পুকুরগুলোতে।
উপজেলার পাঠাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ মিল্লাত জানান, অবৈধ দখলদাররা সুতি নদীতে একের পর এক পুকুর করায় একদিকে যেমন দেশ ও জনগণের ক্ষতি করছে, অন্যদিকে দেশি মাছের জন্য প্রসিদ্ধ এ নদীটি গ্রাসের পাঁয়তারা করছে। একাধিকবার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ মহলে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা তারিন জানান, সুতি নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ডেল্টা প্রকল্প স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত সুতি নদী অবৈধ দখলমুক্ত করে খনন কাজ শুরু হবে।
