বঙ্গবন্ধু হত্যার মদদদাতাদের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা হবে

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৪

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে কমিশন গঠন করবে সরকার। এ কমিশন গঠনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘শোকের মাস, ষড়যন্ত্রের মাস আগস্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করতে কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই কমিশন গঠনের দাবি ওঠানো সম্ভব হয়েছে। এখন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যাওয়ার সময় এসেছে। নেপথ্যে যারা ছিল তাদেরকে চিহ্নিত করার সুযোগ পেয়েছি। আমরা সেই সুযোগ ছেড়ে দিব? সুযোগ ছাড়ব না। আমরা কমিশন গঠন করবই।  আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান যে জড়িত ছিল হত্যাকাণ্ডের বিচারের সময় সে বিষয়ে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ এসেছে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল। জিয়াউর রহমান সরকার গঠনের পর পাকিস্তানের দোসরদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যে তারা ছিল। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় যারা ছিলেন তারা পাকিস্তান সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।

বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল দাবি করে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর রক্ত বাংলাদেশে থাকলে বাংলাদেশকে মেরে ফেলা যাবে না। তাই বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে তার শিশুসন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্ত বা তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশের ক্ষমতা নিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে আমরা মুক্তি পেতে চাই। আমরা অর্ধেক দায় মুক্তি পেয়েছি। যারা হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছে সেই কাপুরুষদের পাশাপাশি যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদেরও বিচার চাই। কলঙ্কিত অধ্যায় থেকে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুনছি। কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার মাস্টারমাইন্ডদের বিচার করা হোক।

সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মামুন আল মাহতাবের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।