জনপ্রশাসনে এবার আরো দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, পদোন্নতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, এবারের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১১তম ব্যাচকে প্রাধান্য দিয়ে তদুর্ধ্ব ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের ১০৭টি পদের বিপরীতে ৪৭৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এরমধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ৭৬ জন। ২০০২ সালের পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী যুগ্ম সচিব পদে তিন বছর চাকরিকাল পূর্ণ করা, গোয়েন্দা ও দুদকের প্রতিবেদন সন্তোষজনক, সমগ্র চাকরিকালের দক্ষতা যোগ্যতা নৈতিক গুণাবলী ভালোমানের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের গড় নম্বর (বেঞ্চ মার্ক) ৮৫ থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালায় যাই থাকুক না কেন পদোন্নতির মূল নিয়ামক বস্তুত তদ্বির। রাজনৈতিক পরিচয় এক সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন কিন্তু সেসব মুখের কথা। নিজেদের স্বার্থে একে অন্যকে টপকানোর জন্য কখনো রাজাকার, কখনো দুর্নীতিবাজ, কখনো যোগ্যতার অভাব, কখনো-বা মেয়েলি দোষে দুষ্ট এমন সব অভিযোগ এনে অনেককে বঞ্চিত করা হয়। যখন কেউ পদোন্নতি পান না, তখন জানতে চাইলে বলা হয় নিশ্চয় কারণ আছে, কিন্তু কী কারণে বঞ্চিত করা হয়, তা বলা হয় না। রিভিউ আবেদনের কথা বলা হয় কিন্তু সে রিভিউ আর আলোর মুখ দেখে না।
অভিযোগ আছে, নীতিমালা অনুসরণ যতটা করা হয় তার চেয়ে বেশি বিবেচনা করা হয় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ। অনেকসময় আঞ্চলিকতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পি এস, এপি এস থাকাটাও বড়ো ধরনের যোগ্যতা বলে বিবেচনা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে একজন কর্মকর্তা বলেন, চাকরির প্রতিবেদনে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যদি কারো বিপক্ষে নেতিবাচক মন্তব্য না থাকে তবে তাকে আটকানোর কোনো সুযোগ নেই। অনেক কর্মকর্তা এখন নিজে কখন কী করেছেন সেটি ঢাকতে পিতৃকুল, মাতৃকুলের পরিচয় ব্যবহার করছেন যে তাদের কুলের অনেকেই আওয়ামী লীগ আদর্শের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু একসময় সবাইতো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের বা প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ১৯৭৫ সালের পরে ঐসব পিতৃ-মাতৃকুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রশাসনে বেশ ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার অনেক আওয়ামী আদর্শের কর্মকর্তাকে এই বলে বঞ্চিত করা হয় যে, তারা দক্ষ নয়। ভালো ইংরেজি জানে না। নানা দোষ আছে তাদের মধ্যে। মোদ্দাকথা পদোন্নতি বা সুযোগ-সুবিধা দিতে চাইলে যোগ্যতার কোনো অভাব নেই। আর না দিতে চাইলে হাজার দোষ খুঁজে প্রচার করা হয়।
