চার মহাসড়কে পণবাহী গাড়িচালক ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণসহ ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়ে বলেছেন, এখন থেকে যত রাস্তা হবে, সব রাস্তার পাশে চালক ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। এছাড়া রাস্তায় ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টি রাখা এবং সড়কের শৃঙ্খলা তৈরি করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় স্বাস্থ্য খাতের একটি প্রকল্প আলোচনার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘আমরা ডাক্তার নিয়োগ দিই। কিন্তু ডাক্তার (স্থানীয় পর্যায়ে) যেতে চান না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডাক্তারদের নিজ কর্মস্থলে রাখতে চেষ্টা করতে হবে।’
সরকারি বিভিন্ন সেবায় ওভারলোডিং বা মাত্রাতিরিক্ত চাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেইসঙ্গে ওভারলোডিং বাড়ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা হচ্ছে না, হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না, সবকিছুই ওভারলোডিং। এগুলোকে সহ্য করে মনিটরিং করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’
সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো, ২৮৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, ৫০৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আলীকদম-জালানিপাড়া-কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়ক (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, ২২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা-সংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন প্রকল্প, ১৮৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়তাকিয়া (আবুতোরাব) থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, ১০০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খুলনা শহরাংশ (৪ কিলোমিটার) চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, ১০১২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, ৩৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, ১২৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুর পুনঃখনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ ব্যবহার প্রকল্প, ১০৫৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন, মানিকগঞ্জ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, ১১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বেগম আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, কাজীপুর, সিরাজগঞ্জ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প এবং ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা অঙ্গ-২ পর্যায় (আইএফএমসি-২) প্রকল্প।
