চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে জলদস্যু সিন্ডিকেটের তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। জলদস্যু নির্মূলে গত বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তত্পরতা চালালে জলদস্যুদের কার্যক্রম কিছু দিনের জন্য বন্ধ ছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের উপকূলীয় জেলেরা প্রায়শই সমুদ্রের নানা পয়েন্টে জলদস্যুদের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরে আসছে—এমন অভিযোগ এখনো মিলছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা এবং ট্রলার মালিক সমিতির সূত্র মতে, সাগরে এখনো তারা পর্যাপ্ত নিরাপদ নন। গভীর সমুদ্রসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে মাছ ধরার ট্রলারগুলো দস্যুদের কবলে পড়ছে। মাছ, নগদ অর্থ, জ্বালানি তেল ইত্যাদির বিনিময়ে অনেক ট্রলার জলদস্যুরা কূলে ফেরার জন্য ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে মাছ ধরতে হলে এসব খবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানাতে শাঁসিয়ে দিচ্ছে জলদস্যুরা।
জেলেদের তথ্য মতে, জলদস্যুরা উচ্চশক্তির যান্ত্রিক নৌকায় করে জেলে নৌকাগুলোকে ধাওয়া করে। তাদের কাছে থাকে ধারালো অস্ত্র, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং একনলা-দোনলা বন্দুক। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক ও অবৈধ পণ্যের ট্রলারগুলোকে পাহারা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জলদস্যুরাই প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। সূত্রটি জানায়, জলদস্যুদের নির্মূলে গত বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তত্পরতা চালালে, তাদের তত্পরতা কিছু দিনের জন্য বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে ৪৩ জন জলদস্যু ৯৪টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৭ হাজার ৬৩৭টি গুলিসহ আত্মসমর্পণ করে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল উপকূলীয় আলী আকবর ডেইল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জন সন্দেহভাজন জলদস্যু নিহত হয়।
বাঁশখালীর একটি পর্যবেক্ষক সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, তারা সমুদ্রপথে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড কিংবা উপকূলীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর ভরসা করতে পারছেন না। চকরিয়া, মহেশখালী এবং কুতুবদিয়াভিত্তিক জলদস্যু সিন্ডিকিটগুলো আগের মতোই বেপরোয়া রয়েছে। দস্যুতার অনুপাতে সাগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল খুবই অপ্রতুল। টাকা, মাছ, জ্বালানি তেল এমনকি অনেক সময় পুরো নৌকাটি তাদের হাতে তুলে দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের একটি সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, লোকবল এবং নৌযানের সংখ্যা কম থাকলেও বিভিন্ন পয়েন্টে কোস্টগার্ডের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা টহল রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার ভেতরেও কোস্টগার্ডের সাফল্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
